Body Recovery

বিয়ের ১০ দিন আগে পুকুর থেকে উদ্ধার তরুণীর দেহ হাবড়ায়, তদন্তে পুলিশ

মেয়ের এই মৃত্যুকে স্বাভাবিক বলে মানতে নারাজ বাবা প্রকাশ সাহা। তাঁর সন্দেহ, মেয়েকে খুন করা হয়েছে।

পুকুর থেকে মৃতার দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, হাবড়া
  • শেষ আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬ ০৫:৫৮

মাত্র দশ দিন বাকি ছিল বিয়ের। বাড়ি জুড়ে চলছিল বিয়ের প্রস্তুতি। আত্মীয়-স্বজনদের নিমন্ত্রণও প্রায় শেষ। কিন্তু সেই আনন্দের পরিবেশ মুহূর্তে বদলে গেল শোকে। বৃহস্পতিবার সকালে উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ার জয়গাছি শ্রীনগর এলাকায় একটি পুকুর থেকে উদ্ধার হল এক তরুণীর দেহ। মৃতার নাম মৃদুলা সাহার দেহ (২৪)।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃদুলা হাবড়া চৈতন্য কলেজের বিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। পরিবারের পছন্দে হাবড়ার হিজলপুকুর এলাকার এক যুবকের সঙ্গে তাঁর বিয়ে ঠিক হয়েছিল। আগামী ১২ জুলাই বিয়ের দিন নির্ধারিত ছিল। বাড়িতে প্যান্ডেল তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছিল। বিয়ের কার্ড বিলির কাজও চলছিল।

পরিবারের দাবি, বুধবার মৃদুলা আচমকাই বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যান। বেরোনোর সময় তিনি নিজের মোবাইল ফোন বাড়িতেই রেখে যান। পরে দেখা যায়, ফোন থেকে সমস্ত পরিচিত নম্বরও মুছে ফেলা হয়েছে। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাঁর সন্ধান মেলেনি। বুধবার রাতেই তাঁর বাবা হাবড়া থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন।

বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা পাড়ার একটি পুকুরে একটি দেহ ভাসতে দেখেন। প্রথমে সেটিকে অন্য কিছু বলে মনে হয়। কাছে গিয়ে বুঝতে পারেন সেটি মানুষের দেহ। দ্রুত পুলিশে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ স্থানীয়দের সহযোগিতায় দেহটি উদ্ধার করে। পরে পরিবারের সদস্যরা সেটি মৃদুলার দেহ বলে শনাক্ত করেন। তাঁর পরনে ছিল হলুদ-কালো রঙের সালোয়ার-কামিজ। মাথায় চুলের ক্লিপ ছিল।

মেয়ের এই মৃত্যুকে স্বাভাবিক বলে মানতে নারাজ বাবা প্রকাশ সাহা। তাঁর দাবি, বুধবারও তিনি বিয়ের নিমন্ত্রণপত্র বিতরণ করে বাড়ি ফিরেছিলেন। তখনই জানতে পারেন মেয়ে বাড়িতে নেই। তাঁর সন্দেহ, মেয়েকে খুন করা হয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য সামনে আসা উচিত।

অন্য দিকে, হাবড়া থানার পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে মৃতদেহে কোনও আঘাতের চিহ্ন মেলেনি। পরিবারের পক্ষ থেকেও এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। ঘটনার তদন্ত চলছে।


Share