Calcutta High Court

ধর্মতলার ২১ জুলাই সভা নিয়ে আদালত অবমাননা মামলা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে হলফনামা তলব হাই কোর্টের, অগস্টে পরবর্তী শুনানি

শুক্রবার বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি অপূর্ব সিংহ রায়ের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, মামলায় যুক্ত সমস্ত পক্ষকে হলফনামা জমা দিতে হবে। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী অগস্ট মাসে।

আদালত অবমাননার মামলায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে হলফনামা তলব করল হাই কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬ ১২:৫২

ধর্মতলায় ‘শহিদ দিবস’ পালনকে ঘিরে দায়ের হওয়া আদালত অবমাননার মামলায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে হলফনামা তলব করল কলকাতা হাই কোর্ট। শুক্রবার বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি অপূর্ব সিংহ রায়ের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, মামলায় যুক্ত সমস্ত পক্ষকে হলফনামা জমা দিতে হবে। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী অগস্ট মাসে।

২১ জুলাইয়ের সভার জন্য শহরের প্রধান সড়ক সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার অভিযোগে তৃণমূলের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের হয়। সেই মামলায় গত ১৯ জুন কলকাতা হাই কোর্ট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিশ জারি করে। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে হাই কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, জনসভার জন্য শহরের কোনও প্রধান বা গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পুরোপুরি বন্ধ করা যাবে না। মামলাকারীর অভিযোগ, সেই নির্দেশ উপেক্ষা করেই ২০২৫ সালের শহিদ দিবসের কর্মসূচিতে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল প্রধান সড়ক বন্ধ করে সভার আয়োজন করেছিল।

তৃণমূলের সভা ঘিরে আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘনের অভিযোগে সম্প্রতি হাই কোর্টে একটি মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলার শুনানি গত ১৯ জুন বিচারপতি বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

২০১৮ সালে শহরের রাস্তা অবরুদ্ধ করে রাজনৈতিক দলের সভা-সমিতি আয়োজন সংক্রান্ত একটি মামলায় কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য ও বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ একাধিক নির্দেশ দেয়। আদালত স্পষ্ট জানায়, কোনও সভা বা সমাবেশের জন্য শহরের কোনও প্রধান বা গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা যাবে না। রাস্তার অন্তত একটি অংশ সর্বদা পথচারী ও যানবাহন চলাচলের জন্য খোলা রাখতে হবে। পাশাপাশি অ্যাম্বুল্যান্স-সহ জরুরি পরিষেবার নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজন হলে বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা করে তা আগাম সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে জানাতে হবে। এ ছাড়াও, সভা বা মিছিল চলাকালীন ভাঙচুর, অশান্তি বা হিংসার ঘটনা ঘটলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছিল হাই কোর্ট।

তৃণমূল-সহ রাজ্যের ৩৮টি রাজনৈতিক দলকে নিয়ে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় আগেই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছিল হাই কোর্ট। বিচারপতি ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে জানিয়েছিল, বড় রাজনৈতিক সভা বা মিছিলের জেরে কলকাতায় যানজট তৈরি হয়, যার ভোগান্তির শিকার হন সাধারণ মানুষ ও নিত্যযাত্রীরা। এমনকি অ্যাম্বুল্যান্স-সহ জরুরি পরিষেবাও ব্যাহত হয়, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হতে পারে না।

অভিযোগ, ২০২৫ সালে ওই নির্দেশ মানেনি তৃণমূল। আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে ধর্মতলায় ২১ জুলাইয়ের সমাবেশে রাস্তা অবরোধ করা হয়েছিল, যার ফলে ব্যাপক দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই দায়ের হওয়া মামলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিশ পাঠিয়েছিল হাই কোর্ট। এবার সেই মামলায় মমতা-সহ সংশ্লিষ্ট সমস্ত পক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিল আদালত।


Share