Job Scam

সিবিআইয়ের চার্জশিটে নাম, তবু আদালতে হাজির নন মানিক, আত্মসমর্পণ করলেন রত্না ও বিভাস

ওই চার্জশিটে মানিকের পাশাপাশি নতুন করে অভিযুক্ত করা হয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সচিব রত্না চক্রবর্তী বাগচী এবং বীরভূমের নলহাটির ২ নম্বর ব্লকের প্রাক্তন তৃণমূল সভাপতি বিভাস অধিকারীকে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬ ০৪:১০

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআইয়ের সর্বশেষ চার্জশিটে অভিযুক্ত হিসেবে নাম থাকা সত্ত্বেও শুক্রবার কলকাতার নগর দায়রা আদালতে হাজিরা দিলেন না প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি তথা প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্য। ওই চার্জশিটে মানিকের পাশাপাশি নতুন করে অভিযুক্ত করা হয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সচিব রত্না চক্রবর্তী বাগচী এবং বীরভূমের নলহাটির ২ নম্বর ব্লকের প্রাক্তন তৃণমূল সভাপতি বিভাস অধিকারীকে। এ দিন রত্না চক্রবর্তী বাগচী ও বিভাস অধিকারী আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করলেও একমাত্র অনুপস্থিত ছিলেন মানিক ভট্টাচার্য।

মানিক ভট্টাচার্যের অনুপস্থিতি নিয়ে এ দিন আদালতে প্রশ্ন ওঠে। বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারকও। যদিও তাঁর পক্ষে আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এ দিন প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার শুনানিতে আদালতে হাজিরা দেন ‘কালীঘাটের কাকু’ নামে পরিচিত সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী  আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেন। সিবিআইয়ের আগের চার্জশিটগুলিতে পার্থ, সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র এবং -এর নাম অভিযুক্ত হিসেবে থাকলেও, প্রাথমিক নিয়োগ মামলার সর্বশেষ চার্জশিটে তাঁদের নাম নেই। অন্য দিকে, সর্বশেষ চার্জশিটে নাম না থাকলেও আদালতে উপস্থিত হন। তিনি আদালতকে জানান, চিকিৎসার জন্য দক্ষিণ ভারতে যাওয়ার অনুমতি চান।

২০২৫ সালের অক্টোবরে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় চূড়ান্ত চার্জশিট জমা দেয় সিবিআই। তদন্তে উঠে আসে, নিয়ম ভেঙে ঘুরপথে অন্তত ৩৫০ জনকে চাকরি দেওয়া হয়েছিল। সিবিআইয়ের সন্দেহ, এই নিয়োগচক্রে এজেন্ট হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন মানিক ভট্টাচার্যের ঘনিষ্ঠ বিভাস। বিভাস একসময় বেসরকারি বিএড ও ডিএলএড কলেজ সংগঠনের প্রাক্তন সভাপতি ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ভুয়ো থানা পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে। সেই মামলায় নয়ডা পুলিশ একসময় তাঁকে গ্রেফতার করেছিল। পুলিশ সূত্রের দাবি, অভিযুক্তরা নিজেদের ব্রিটেনে অফিস থাকার কথা বলতেন। পাশাপাশি, ইন্টারপোল এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে বলেও দাবি করতেন। তদন্তকারীদের অভিযোগ, এই ধরনের ভুয়ো পরিচয় ও নথি দেখিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা চালানো হত।

অভিযোগ, অযোগ্য প্রার্থীদের চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে কোটি কোটি টাকা তোলা হতো। তদন্তে উঠে এসেছে, বীরভূমের কৃষ্ণপুরের একটি আশ্রমে চলত ঘুষের লেনদেন। সেখান থেকে বস্তায় ভরে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা কলকাতায় মানিকের ঠিকানায় পাঠানো হতো বলে অভিযোগ।


Share