Donald Trump

আমেরিকায় পড়তে যাওয়ার স্বপ্নে বড় ধাক্কা! ভারতীয়দের স্টুডেন্ট ভিসা ৬২% কমাল ট্রাম্প প্রশাসন

অন্য দিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে চিনের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি নমনীয়তা দেখা গিয়েছে। সরকারি তথ্য বলছে, চিনা পড়ুয়াদের এফ-১ ভিসা অনুমোদনের হার কমেছে মাত্র ৩৪ শতাংশ।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ০৭ আগস্ট ২০২৬ ০৯:৪৩

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে আমেরিকায় যেতে চাওয়া ভারতীয় ছাত্রছাত্রীদের জন্য ২০২৫ সাল বড় ধাক্কা নিয়ে এসেছে। সদ্য প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের জন্য আমেরিকার এফ-১ স্টুডেন্ট ভিসা অনুমোদনের হার রেকর্ড ৬২ শতাংশ কমেছে। অন্য দিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে চিনের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি নমনীয়তা দেখা গিয়েছে। সরকারি তথ্য বলছে, চিনা পড়ুয়াদের এফ-১ ভিসা অনুমোদনের হার কমেছে মাত্র ৩৪ শতাংশ।

ওয়াশিংটন সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় শিক্ষার্থীদের জন্য আমেরিকার এফ-১ স্টুডেন্ট ভিসা মঞ্জুরের সংখ্যা এক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৪ সালের মে থেকে অগস্টের মধ্যে ৫৮ হাজার ৬৯৪ জন ভারতীয় শিক্ষার্থী এফ-১ ভিসা পেলেও, ২০২৫ সালের একই সময়ে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ২২ হাজার ১৪৯-এ। অর্থাৎ, ভিসা অনুমোদনের হার কমেছে প্রায় ৬২ শতাংশ। অন্য দিকে, চিনা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও ভিসা অনুমোদন কমেছে। ২০২৪ সালের মে-অগস্টে যেখানে ৬১ হাজার ০৭৫টি এফ-১ ভিসা মঞ্জুর হয়েছিল, ২০২৫ সালের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ০৩৪-এ, যা প্রায় ৩৪ শতাংশ হ্রাস। বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকার প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির প্রভাবেই এই বড় পতন দেখা যাচ্ছে।

আগে বিদেশি পড়ুয়াদের জন্য আমেরিকায় ‘ডিউরেশন অফ স্টেটাস’ নীতি চালু ছিল। এর ফলে বৈধ ছাত্রভিসা থাকলে পাঠক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময়সীমার বাধ্যবাধকতা ছাড়াই আমেরিকায় থাকা যেত। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অভিবাসন নীতিতে এফ-১ ভিসার মেয়াদ ও বিদেশি পড়ুয়াদের অবস্থান সংক্রান্ত নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণভাবে এফ-১ ভিসার মেয়াদ চার বছর পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে। কোনও শিক্ষার্থীর পাঠক্রম এর চেয়ে দীর্ঘ হলে তাঁকে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য নতুন করে আবেদন করতে হবে। পাশাপাশি, পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর আমেরিকায় থাকার ‘গ্রেস পিরিয়ড’ ৬০ দিন থেকে কমিয়ে ৩০ দিন করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তনের প্রভাব ভারতীয় পড়ুয়াদের উপর তুলনামূলকভাবে বেশি পড়তে পারে। কারণ, অধিকাংশ ভারতীয় শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য আমেরিকায় গিয়ে পড়াশোনা শেষে ওপিটি।বা এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে সেখানে চাকরি করার পরিকল্পনা করেন। অন্য দিকে, অনেক চিনা শিক্ষার্থী মূলত স্নাতক বা স্বল্পমেয়াদি কোর্স শেষ করেই নিজ দেশে ফিরে যান। তাই নতুন অভিবাসন নীতির প্রভাব ভারতীয়দের ক্ষেত্রে বেশি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছর ‘আমেরিকান ইমিগ্রেশন লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আমেরিকার বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অভিযোগে যেসব বিদেশি পড়ুয়ার এফ-১ ভিসা বাতিল করা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যকই ছিলেন ভারতীয়। দ্বিতীয়বার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই এক নির্বাহী আদেশে ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, আমেরিকায় প্রবেশকারী বিদেশিরা যেন দেশের নাগরিক, সংস্কৃতি, সরকার, প্রতিষ্ঠান বা আদর্শের প্রতি কোনও শত্রুতাপূর্ণ মনোভাব না রাখেন, তা নিশ্চিত করা হবে। এরপর থেকেই ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করে আমেরিকার প্রশাসন। একই সঙ্গে বিদেশি শিক্ষার্থীদের আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ভর্তি নিয়েও কঠোর নীতি গ্রহণ করা হয়। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি সংক্রান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের একাধিক পদক্ষেপ পরে আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়েছিল।


Share