Narendra Modi

‘তরুণরাই বিকশিত ভারতের ভবিষ্যৎ’, দিল্লি আইআইটির সমাবর্তনে পড়ুয়াদের বড় বার্তা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর

দিল্লি আইআইটির সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তরুণদের দেশের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে তরুণ প্রজন্মের উপর আস্থা এবং তাঁদের হাতেই দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠার বার্তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ০৮ আগস্ট ২০২৬ ০৪:৫০

তরুণ প্রজন্মই দেশের ভবিষ্যৎ। তাঁদের হাত ধরেই দেশ আরও এগিয়ে যাবে। আর সেই কারণেই দেশের আজ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তরুণদের, দিল্লি আইআইটির সমাবর্তন অনুষ্ঠান থেকে এমনই বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

সম্প্রতি দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং পড়ুয়াদের বিক্ষোভের পর সমাজমাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বার্তা দিয়েছিলেন। সেই বার্তার মাধ্যমে তরুণদের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ স্থাপনেরও চেষ্টা করেছিলেন। এ বার আরও এক ধাপ এগিয়ে প্রকাশ্য মঞ্চে দাঁড়িয়ে দেশের তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে বার্তা দিতে দেখা গেল মোদীকে। দিল্লি আইআইটির সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তরুণদের দেশের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে তরুণ প্রজন্মের উপর আস্থা এবং তাঁদের হাতেই দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠার বার্তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

বিকশিত ভারত গড়ার ক্ষেত্রে তরুণ প্রজন্মের উপর যে তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে, সেই বার্তাই দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তাঁদের মতো নতুন প্রজন্মকেই দেশের প্রয়োজন এবং তাঁদের সক্ষমতার উপর দেশবাসীর সম্পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে। পাশাপাশি, পুঁথিগত পরীক্ষা এবং জীবনের পরীক্ষার মধ্যে পার্থক্যও প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেছেন। তাঁর কথায়, পড়াশোনার পরীক্ষার নির্দিষ্ট সিলেবাস থাকে। কিন্তু জীবনের পরীক্ষার কোনও নির্দিষ্ট সিলেবাস নেই। জীবনের পথে সামনে আসা পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জের অনেকটাই ‘আউট অব দ্য সিলেবাস’, মোদী এই বাস্তবতাই তরুণদের মনে করিয়ে দেন।

প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘‘ জীবনে অনেক সমস্যা আসবে। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ক্যাম্পাসের জীবন এবং ক্যাম্পাসের বাইরের জীবনে ফারাক রয়েছে। আইআইটি পরীক্ষার সিলেবাস আছে। কিন্তু জীবনের পরীক্ষার সব কিছু সিলেবাসের বাইরে। ক্যাম্পাস-জীবনে সব কিছু পরিষ্কার থাকত আপনাদের কাছে। কোনটা পড়তে হবে, কী পরীক্ষা দিতে হবে। সব আগে থেকে জানতেন। কিন্তু জীবনের কোনও প্রশ্নপত্র থাকে না।’’ প্রতিটি পদক্ষেপেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। তবে সেই চ্যালেঞ্জকে ভয় না পেয়ে গ্রহণ করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে বলে প্রধানমন্ত্রী বার্তা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি শেখার আগ্রহ ও কৌতূহল সবসময় জাগিয়ে রাখার পরামর্শও দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, তরুণ প্রজন্ম যেন কোনও বিষয় না বুঝে অন্ধভাবে মেনে না নেয়। বরং প্রতিটি বিষয়ে প্রশ্ন তুলতে হবে এবং সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

তিনি জানান, প্রত্যেক প্রজন্মের দেশের প্রতি দায়িত্ব রয়েছে। সেই দায়িত্ব দেশের উন্নয়নের স্বার্থে হওয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘‘আপনারা প্রত্যেকেই জানেন, প্রতি প্রজন্মের সামনে সেই সময়ের চ্যালেঞ্জ আসে। চ্যালেঞ্জের সঙ্গে নিজেদের বদলাতে হবে। আগামী দিনে আপনারা যা করবেন, সেটাই বিকশিত ভারতের রাস্তা দেখাবে। তাই আপনারা এমন সিদ্ধান্ত নেবেন, যা দেশের উন্নয়নের স্বার্থে কাজে লাগে।’’

অর্থনীতি, প্রযুক্তি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশকে আত্মনির্ভর করে তুলতে একাধিক পদক্ষেপ করা হচ্ছে। আর আত্মনির্ভরতার এই পথ ধরেই ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে দেশ, বার্তা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘‘বিকশিত ভারতের এই সফরে আপনাদের ভূমিকা অনেক বড়। দেশের তরুণ প্রজন্ম যত শক্তিশালী হবে, দেশও তত শক্তিশালী হবে।’’

উল্লেখ্য, নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপি এবং পড়ুয়াদের আন্দোলনের জেরে পরিস্থিতি উত্তাল হয়ে উঠেছিল। কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। সেই সময় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিও জোরালো হয়েছিল। এর পরেও দেশের শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থার নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে পড়ুয়ারা আন্দোলন চালিয়ে যান পড়ুয়ারা। তরুণ প্রজন্ম আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছিল। সেই পরিস্থিতিতে তরুণদের মধ্যে সরকারের ভাবমূর্তি যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং সরকারের প্রতি তাঁদের আস্থা বজায় থাকে, সেই লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যন্তর মন্তরের আন্দোলনের পর তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেন। সমাজমাধ্যমে তরুণদের উদ্দেশ্যে একাধিক বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি তিনি তাঁদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টাও করেন। এ বার প্রকাশ্য জনসভা থেকেও দেশের তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে ফের সংযোগ স্থাপনের বার্তা দিতে দেখা গেল প্রধানমন্ত্রীকে।


Share