RG Kar Medical

একই দিনে আরজি কর হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ দুই রোগী, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন, থানায় অভিযোগ দায়ের

হাসপাতালের এক কর্তা বলেন, “দু’জনের ক্ষেত্রেই থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এটা অবশ্যই নিরাপত্তার দায়িত্ব৷ প্রশ্ন উঠছেই তবে এবার থেকে এটা আর হবে না।”

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৮ আগস্ট ২০২৬ ০১:৩৫

একই দিনে নিখোঁজ হল দু’জন রোগী। আরজি কর হাসপাতালে ঘটনাটি ঘটেছে। দুই পরিবারের সদস্যরা প্রায় একই অভিযোগ করছেন। ঘটনা নিয়ে টালা থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। 

এক নিখোঁজ রোগীর নাম বিমল ঘোষ। ৫১ বছর বয়স। তিনি বরানগরের বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রের খবর, জ্বর, হৃদযন্ত্রের সমস্যা নিয়ে বিমল বৃহস্পতিবার বরানগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে প্রথমে যান। তাঁকে সেখান থেকে আরজি কর মেডিকেলে রেফার করা হয়। তিনি ওই হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ছ’তলায় ওয়ার্ডে ছিলেন। বেড নং ২২-এ তিনি ছিলেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিমলবাবুকে ভর্তি করা হয়।

পরিবারের বক্তব্য, গতকাল সকাল ১১টা নাগাদ পরিবারের সদস্যরা বিমলবাবুকে দেখতে যান। গিয়ে দেখেন, তিনি বেডে নেই। কোথায় আছেন তা জানতে চাইলে ওয়ার্ডে কর্তব্যরত স্বাস্থ্যকর্মী জানান, তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু ওয়ার্ড বয়ের জানায়, তিনি শৌচাগারে গিয়েছেন। আবার, পাশের বেডের রোগী জানায়, শুক্রবার সকাল সকাল ৮টার পর থেকে বিমলবাবুকে আর দেখা যায়নি। ঘটনাটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। রাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিবারকে জানায়, রোগীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

একদিকে যখন বিমল ঘোষ নিখোঁজ হয়েছেন একই দিনে ওই হাসপাতাল থেকে আরও এক রোগী নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজ রোগীর নাম দীপান্বিতা রায় (২৩)। তিনি চিৎপুরের বাসিন্দা (বয়স ২৩ বছর)। তরুনী আরজি করের হাসপাতালে চার তলায় টিসিইউ ওয়ার্ডের ১ নম্বর বেডে ভর্তি ছিলেন। দাবি, গতকাল রাত সাড়ে ৯টা থেকে তরুনীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এর পরই রাতের বেলাতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পরিবারকে নিখোঁজ হওয়ার খবর জানানো হয়েছে। এর পাশাপাশি চিৎপুর থানায়তেও নিখোঁজ ডায়রি দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রের খবর, তদন্ত শুরু হয়েছে। হাসপাতালের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও এই বিষয়ে লালবাজারের তরফে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এখনও মেলেনি। তবে হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে আবার প্রশ্ন উঠছে।

যদিও এই বিষয়ে আরজি কর মেডিকেলের ভাইস প্রিন্সিপাল সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায় দু’টি ঘটনা স্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, দীপান্বিতার ছুটি হয়েছিল। তাঁরা ক্ষেত্রে ডিসচার্জ হওয়ার শংসাপত্র না নিয়ে বেরিয়ে যায়। অন‍্য জন, বিমল ঘোষের ক্ষেত্রেও অভিযোগ হয়েছে। আমরা বলেছি, এ বার থেকে ডিসচার্জ শংসাপত্র খতিয়ে না দেখা পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে বেরানো যাবে না। নিরাপত্তারক্ষীদের এটা দেখতে হবে। দু’জনের ক্ষেত্রেই থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।”

হাসপাতালের ওই কর্তা আরও বলেন, “দু’জনের ক্ষেত্রেই থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এটা অবশ্যই নিরাপত্তার দায়িত্ব৷ প্রশ্ন উঠছেই তবে এবার থেকে এটা আর হবে না।”


Share