Census

গ্রাম আছে, গ্রামবাসীরা আছেন, অথচ সরকারি খাতায় গ্রামের অস্তিত্ব নেই! জনগণনা শুরু হতে অস্তিত্ব সংকটে হুগলির গ্রাম

গ্রামবাসী অপূর্ব ঘোষ বলেন, “আমার সন্তান আট মাস আগে জন্ম নেয়। চুঁচুড়া হাসপাতালে জন্ম হয়েছিল। তার জন্মের শংসাপত্রে খলসী গ্রামের নাম আসেনি। এর পরেই আমরা খোঁজ খবর করি। জানতে পারি এই অবস্থা হয়ে আছে।”

হুগলির খলসী গ্রামে জনগণনা নিয়ে সমস‍্যা।
প্রীতম সাধুখাঁ, চুঁচুড়া
  • শেষ আপডেট: ০৮ আগস্ট ২০২৬ ০৩:০৪

হুগলির চুঁচুড়া-মগড়া ব্লকের হোয়েরা দিগসুই গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘটনা। সেখানকার খলসী গ্রাম নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। ওই পঞ্চায়েতে গ্রাম আছে। গ্রামের বাসিন্দারাও আছেন। কিন্তু সরকারি খাতায় ওই গ্রামের কোনও অস্তিত্ব নেই। তবে ‘অস্তিত্ব সংকট’ নিয়ে জেলা প্রশাসনের বক্তব্য, এই গ্রামের ম‍্যাপিং নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। তা দ্রুত সমাধান করা হবে।

জানা গিয়েছে চুঁচুড়া-মগড়া ব্লকের হোয়েরা দিগসুই গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত মোট ১৮টি গ্রাম আছে। তার মধ্যে একটি গ্রাম হল খলসী। খলসী গ্রামে প্রায় দু’হাজার ২০০ গ্রামবাসী রয়েছেন। তার মধ্যে ভোটার প্রায় এক হাজার ২০০ জন ভোটার। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, দিগসুই গ্রাম পঞ্চায়েতে ১৭ টি গ্রামের সেনসাস কোড রয়েছে। খলসী গ্রামের নাম তাতে নেই। গ্রামবাসীদের বক্তব্য, এর ফলে সরকারি যাবতীয় কাজ, জন্মের শংসাপত্র, আধার কার্ডে নিজের গ্রামের নাম তুলতে পারেন না। চিঠি বা পার্সেল এলে তা এক কিমি দূরে দিগসুই গ্রামের ঠিকানায় আসে। এমনকী, অনেক সময় তা ফিরেও যায়। এর ফলে বিগত দিনে বিস্তর সমস্যায় গ্রামবাসীদের সমস্যায় ফিরতে হয়েছে। 

বর্তমানে জনগণনা শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে স্ব-গণনার (সেল্ফ এনুমারেশন) কাজ চলছে। সেই কাজ করতে গিয়ে ‘সেনসাস পোর্টালে’ নিজের গ্রামের নাম নথিভুক্ত করার সময় তা খলসী গ্রামের বাসিন্দারা খুঁজে পাচ্ছেন না বলেই দাবি করছেন। এর পরই গ্রামবাসীরা জেলা প্রশাসনকে এই বিষয় নিয়ে চিঠি দিয়েছেন। তাতে খলসী গ্রামের নাম, পোস্টাল ঠিকানা, থানা, জেলা, পিনকোড সরকারি রেকর্ডে তুলতে দাবি জানিয়েছেন। ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক, মহকুমাশাসক, জেলাশাসক এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে আবেদন করেছেন তাঁরা। 

গ্রামবাসীদের আরও দাবি, যে গ্রামে তাঁরা বসবাস করেন সেই গ্রামকে কখনও পাড়া, কখনও রাস্তা আবার কখনও কোনও বিল্ডিং-এর নামে পরিচিত হতে হচ্ছে। তাই গ্রামবাসীরা চাইছেন, জনগণনার কাজ যখন শুরু হয়েছে তাঁদের গ্রামের নামে সরকারি শিলমোহর পড়ুক।

প্রশান্ত ঘোষ নামে এক গ্রামবাসী বলেন, “ঠিকানায় পিনকোড দেখে গ্রামের নাম খুঁজে না পেয়ে অনেক সময় চিঠিপত্র ফিরে চলে যায়। চিঠি এসেছে জানতে পারলে পাশের গ্রাম থেকে নিয়ে আসতে হয়। সরকারি পোর্টাল থেকে আমাদের গ্রামের নাম পুরোপুরি বাদ হয়ে গিয়েছে। আমরা বেশ কিছু দিন আগেই বিষয়টি জানতে পারি। সরকারের কাছেও আবেদন জানিয়েছি।” তিনি আরও বলেন, “ভোটার কার্ড নিয়ে আগে একটা সমস্যা তৈরি হয়েছিল। সেটাকে মেটানো হয়েছিল। এ বার জনগণনা নিয়ে সমস্যা শুরু হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, আমাদের গ্রামের নাম নেই। পাশের গ্রাম, দিগসুইয়ে আমাদের গ্রামকে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

আরেক গ্রামবাসী অপূর্ব ঘোষ বলেন, “আমার সন্তান আট মাস আগে জন্ম নেয়। চুঁচুড়া হাসপাতালে জন্ম হয়েছিল। তার জন্মের শংসাপত্রে খলসী গ্রামের নাম আসেনি। এর পরেই আমরা খোঁজ খবর করি। জানতে পারি এই অবস্থা হয়ে আছে।”

যদিও এই সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন হুগলির জেলাশাসক। এমন সমস‍্যার নিয়ে জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি বলেন, “এইচএলবিতে ম্যাপ নিয়ে সমস্যা আছে। একটা সম্পূর্ণ প্রযুক্তিগত ত্রুটি। ওই গ্রামটিরে ম্যাপিং করতে হবে। এই বিষয়ে জনগণনার ডিরেক্টরকে জানানো হয়েছে। ম‍্যাপিং করে দেওয়ার জন‍্য সুপারিশ করা হয়েছে। দ্রুত এই সমস‍্যার সমাধান করা হবে।”


Share