Death

গ্রেফতারের পরই পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু, উঠল নির্যাতনের অভিযোগ! বিরজু কেওটের মৃত্যু ঘিরে তদন্তের দাবি

শুনানি শেষে বিচারক বিরজুর পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। এরপরই পুলিশি হেফাজতে তাঁর মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে তাঁর মৃত্যু হল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

স্বামী বিরজু কেওটের সঙ্গে পদত্যাগী তৃণমূল কাউন্সিলর জেনি শর্মা কেওট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কাঁচরাপাড়া
  • শেষ আপডেট: ০৮ আগস্ট ২০২৬ ০৮:৫৪

পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু হল কাঁচরাপাড়া পুরসভার পদত্যাগী তৃণমূল কাউন্সিলরের স্বামী বিরজু কেওটের। তাঁর স্ত্রী তথা কাঁচরাপাড়া পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের পদত্যাগী তৃণমূল কাউন্সিলর জেনি শর্মা কেওটের অভিযোগ, লকআপে পুলিশি মারধরের জেরেই তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে পুলিশের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগে হালিশহর থানার পুলিশ বিরজুকে গ্রেফতার করেছিল। শুক্রবার তাঁকে আদালতে হাজির করানো হয়। শুনানি শেষে বিচারক বিরজুর পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। এরপরই পুলিশি হেফাজতে তাঁর মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে তাঁর মৃত্যু হল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

পরিবারের দাবি, শুক্রবার রাত প্রায় ১০টা নাগাদ স্ত্রী জেনি থানায় গিয়ে স্বামী বিরজুর সঙ্গে দেখা করেন। তাঁর দাবি, সেই সময় বিরজু সুস্থই ছিলেন। পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, থানার পক্ষ থেকে তাঁর মেডিক্যাল পরীক্ষাও করানো হয়েছিল। সেই রিপোর্টে গুরুতর কোনও শারীরিক সমস্যার উল্লেখ ছিল না। জেনি স্বামীর পরার জন্য জামাকাপড়ও থানায় দিয়ে আসেন জেনি। তবে পরিবারের অভিযোগ, শুক্রবার রাতেই পুলিশি হেফাজতে বিরজুর উপর অত্যাচার করা হয়। এমনকি, তাঁর হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়েছিল বলেও দাবি করেছেন জেনি। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।

হালিশহর থানার একটি সূত্রের দাবি, শুক্রবার রাতে লকআপে বিরজুকে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। দ্রুত তাঁকে কল্যাণীর জওহরলাল নেহরু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক ভাবে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। বিরজুর শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন ছিল কি না, তা-ও এখনও স্পষ্ট নয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পরেই মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে। পরিবারের তরফে ওঠা পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

জেনি দাবি করেছেন, তাঁর স্বামী সম্পূর্ণ নিরপরাধ ছিলেন। পুলিশের হেফাজতে নিয়ে গিয়ে তাঁর উপর অত্যাচার করা হয় এবং সেই কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ। মৃতের দুই সন্তান রয়েছে, যাদের মধ্যে এক জনের বয়স মাত্র তিন বছর। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যেরা।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ব্যারাকপুরের তৃণমূল সভাপতি অমিত গুপ্তা ঘটনাটিকে ‘দুঃখজনক’ বলে উল্লেখ করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, বিরজুর নামে কোনও এফআইআর ছিল না। তৃণমূল নেতা সোমনাথ গঙ্গোপাধ্যায়কে গ্রেফতারের সময় বিরজু তাঁর সঙ্গে ছিলেন বলেই তাঁকেও পুলিশ নিয়ে যায়। পুলিশি হেফাজতে তাঁর কী ভাবে মৃত্যু হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান অমিত।


Share