Sikkim Accident

সিকিমের সুড়ঙ্গে মৃত্যুমিছিল! মৃত ১১, মিথেন গ্যাসে থমকে উদ্ধারকার্য, ভিতরে এখনও আটকে ১৫ শ্রমিক

স্থানীয় সূত্রের খবর, সুড়ঙ্গের ভিতরে মিথেন গ্যাস লিক করায় উদ্ধারকাজে বড় বাধা তৈরি হয়েছে। গ্যাসের কারণে উদ্ধারকারী দল ভিতরে প্রবেশ করতে পারছে না।

সিকিমের সুড়ঙ্গে ধস নেমে মৃত ১১।
নিজস্ব সংবাদদাতা, সিকিম
  • শেষ আপডেট: ২১ জুলাই ২০২৬ ০৫:০৫

সিকিমে নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গ ধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১১। এখনও সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে রয়েছেন ১৫ জন শ্রমিক। তাঁদের উদ্ধারে জোরকদমে তৎপর উদ্ধারকারী দল। স্থানীয় সূত্রের খবর, সুড়ঙ্গের ভিতরে মিথেন গ্যাস লিক করায় উদ্ধারকাজে বড় বাধা তৈরি হয়েছে। গ্যাসের কারণে উদ্ধারকারী দল ভিতরে প্রবেশ করতে পারছে না। এর পাশাপাশি টানা বৃষ্টিও উদ্ধার অভিযানকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

নামচির জেলাশাসক অনুপ তামাং জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ১২ জন শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সুড়ঙ্গের ভিতরে ঠিক কত জন আটকে রয়েছেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়। যদিও দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নামচির পুলিশ সুপার সোনম দলমা ভুটিয়ার দাবি, এখনও ১৫ জন শ্রমিক সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে রয়েছেন।

শ্রমিকদের উদ্ধারে এনএইচপিসি, রাজ্য ও জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, সিকিম পুলিশ এবং দমকল-সহ একাধিক সংস্থা যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে। তবে সুড়ঙ্গের ভিতরে মিথেন গ্যাস লিক হওয়ায় উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, গ্যাসের প্রভাবে কয়েক জন উদ্ধারকারী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সোমবার সিকিমের নামচির সামারদুং এলাকায় তিস্তা স্টেজ-৬ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে আচমকাই ধস নামে। সেই সময় সুড়ঙ্গের ভিতরে কাজ করছিলেন বেশ কয়েক জন শ্রমিক। ধসের জেরে সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁদের সঙ্গে বাইরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রথমে সুড়ঙ্গের ভিতর থেকে বিকট শব্দ শোনা যায়। এরপর মুহূর্তের মধ্যেই ধসে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে সুড়ঙ্গমুখ। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে, যখন ধসের পর সুড়ঙ্গের ভিতর থেকে বিষাক্ত মিথেন গ্যাস নির্গত হতে শুরু করে। সেই গ্যাসের কারণেই উদ্ধারকাজে বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে হয় উদ্ধারকারী দলকে।

খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, সিকিম পুলিশ এবং দমকলের একাধিক দল। নামচির জেলাশাসক জানান, সুড়ঙ্গের ভিতরের পরিস্থিতি এতটাই বিপজ্জনক ছিল যে, প্রাথমিকভাবে পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই প্রবেশের চেষ্টা করলে উদ্ধারকারী দলের কয়েক জন সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে বিশেষ সুরক্ষা সরঞ্জাম পরে এনডিআরএফের দ্বিতীয় দল সুড়ঙ্গে প্রবেশ করে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রশাসনের দাবি, আটকে থাকা শ্রমিকদের নিরাপদে উদ্ধার করাই এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।


Share