Middle East Conflict

ফের জ্বলছে পশ্চিম এশিয়া, আমেরিকা-ইরান মুখোমুখি! বিয়েবাড়িতে আমেরিকার হামলায় পাঁচ মৃত, জবাবে জর্ডন-সহ একাধিক দেশে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা

পাল্টা জবাবে তেহরান জর্ডন-সহ পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। কয়েক মাস ধরে থেমে থেমে চলা সংঘাত নতুন করে বড় আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিয়েবাড়িতে ড্রোন হামলা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৩৫

ফের উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শুরু হয়েছে হামলা-পাল্টা হামলা। মঙ্গলবার ইরানের একাধিক এলাকায় হামলা চালায় আমেরিকার সেনা। পাল্টা জবাবে তেহরান জর্ডন-সহ পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। কয়েক মাস ধরে থেমে থেমে চলা সংঘাত নতুন করে বড় আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, আমেরিকার হামলায় দক্ষিণ ইরানের কুহেস্তাকে একটি বিয়েবাড়িতে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে এক শিশুও রয়েছে। হামলার সময় ওই বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। ঘটনায় অন্তত ৬৮ জন আহত হয়েছেন।

ইরানের পার্লামেন্টের ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড ফরেন পলিসি কমিটির চেয়ারম্যান এব্রাহিম আজিজি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'এই হামলার জবাব দেওয়া হবে’। যদিও আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, আমেরিকার বাহিনী কখনও অসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় না। তবে এই দাবির পাল্টা যুক্তি হিসেবে চলতি সংঘাতের প্রথম দিন, অর্থাৎ ফেব্রুয়ারিতে মিনাবের একটি স্কুলে তেহরান হামলার প্রসঙ্গ তুলেছে। ওই হামলায় বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রায় ১৬০ জনের মৃত্যু হয়েছিল বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

আমেরিকান সেনার দাবি, বাণিজ্যিক জাহাজ এবং হরমুজ প্রণালীতে মোতায়েন আমেরিকার বাহিনীর বিরুদ্ধে ইরান হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। একই সঙ্গে ইরান নতুন করে রাডার ব্যবস্থা সক্রিয় করার চেষ্টা করছিল বলেও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন। তাঁর দাবি, রাডার ব্যবস্থা প্রায় প্রস্তুত হয়ে যাওয়ার পরেই ইরানের ওই এলাকায় হামলা চালানো হয়। সমাজমাধ্যমে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরান পাল্টা হামলা চালালে আমেরিকা আরও ‘ভয়ানক’ আঘাত হানবে।

আমেরিকা হামলার পর জর্ডন লক্ষ্য করে ইরান ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডের দাবি, গাল্ফ অফ আকাবার উপকূলে জর্ডনে থাকা একটি আমেরিকার ঘাঁটিই ছিল ওই হামলার লক্ষ্য।

জর্ডনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে। বাকি তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকায় গিয়ে পড়ে। কুয়েতের তরফেও দাবি করা হয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানি ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। অন্য দিকে, বাহরাইনে আমেরিকার সেনাদের লক্ষ্য করে ইরান ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। তবে তেহরানের এই দাবি বাইরাইন এখনও নিশ্চিত করেনি।

ইরানের দক্ষিণ উপকূলের বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ এবং হরমোজগান প্রদেশের একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের খবর মিলেছে। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের দাবি, একটি ফিশমিল কারখানা, মাছ ধরার ঘাট এবং কয়েকটি বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। জিরফট বিমানবন্দরেও হামলার অভিযোগ উঠেছে। তবে বিমানবন্দরের পরিকাঠামোয় কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

মঙ্গলবারের হামলার আগেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছিলেন, আমেরিকা একই পথে এগোলে তেহরান জুনের অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ফিরতে প্রস্তুত। ওই চুক্তিতে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করে ৬০ দিনের আলোচনার কথা বলা হয়েছিল। যদিও সেই সমঝোতা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।

রবিবারও ইরানের রকেট লঞ্চার লক্ষ্য করে আমেরিকা বাহিনী হামলা চালিয়েছিল। পাল্টা জবাবে ইরান জর্ডনে থাকা আমেরিকার ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। মঙ্গলবারের নতুন করে সংঘাতের জেরে ফের পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও এর বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে।


Share