Middle East Conflict

ফের উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া, ইরানের হামলার পাল্টা জবাব আমেরিকার, হরমুজে তেলবাহী পাঁচ জাহাজ ধ্বংসের দাবি সেন্টকমের

তবে এই হামলা নিয়ে এখনও পর্যন্ত ইরানের তরফে কোনও সরকারি বিবৃতি দেওয়া হয়নি। ফলে আমেরিকার বাহিনীর দাবির সত্যতা নিয়ে তেহরানের অবস্থান এখনও স্পষ্ট নয়।

ইরানের হামলার পাল্টা জবাব আমেরিকার।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:০০

ইরানের হামলার পাল্টা জবাব দিতে শুরু করেছে আমেরিকা। পশ্চিম এশিয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সেন্টকম দাবি করেছে, তাঁরা ইরানের অপরিশোধিত তেল বহনকারী পাঁচটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। আমেরিকার বাহিনীর দাবি, হামলায় পাঁচটি জাহাজই ধ্বংস হয়েছে। তবে এই হামলা নিয়ে এখনও পর্যন্ত ইরানের তরফে কোনও সরকারি বিবৃতি দেওয়া হয়নি। ফলে আমেরিকার বাহিনীর দাবির সত্যতা নিয়ে তেহরানের অবস্থান এখনও স্পষ্ট নয়।

হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরান ও আমেরিকার হামলা-পাল্টা হামলায় ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন ঘাঁটি এবং যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। সেন্টকমের দাবি, পর পর দু’দিন আমেরিকার যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে তেহরান ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। তবে কোনও হামলাতেই মার্কিন জাহাজের ক্ষতি হয়নি বলে দাবি তাদের। সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানের ‘ব্যর্থ’ হামলার জবাব দিতে আমেরিকা পাল্টা অভিযান শুরু করেছে। আমেরিকার বাহিনীর অভিযোগ, ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) তেল চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ইরানের অপরিশোধিত তেল বহনকারী পাঁচটি জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি সেন্টকমের। আমেরিকার বাহিনীর দাবি, হামলায় পাঁচটি জাহাজই ধ্বংস হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ইরানের তরফে কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মূলত ওমান উপসাগরেই পর পর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে আমেরিকার বাহিনী। সেন্টকমের দাবি, ওই এলাকায় ইরানের অপরিশোধিত তেল বহনকারী চারটি জাহাজ— এম/টি কাভিজ়, এম/টি চারমিনার, এম/টি হরাইজন এবং এম/টি রিস্কোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি, ইরানের খার্গ দ্বীপের কাছে থাকা এম/টি দরিয়া নামের আরও একটি তেলবাহী জাহাজেও হামলা চালানো হয়েছে বলে আমেরিকা সেনাবাহিনী জানিয়েছে।

আমেরিকার বাহিনীর দাবি, হামলায় কোনও নাবিকের ক্ষতি করার উদ্দেশ্য ছিল না। সেই কারণেই হামলার আগে জাহাজগুলিতে থাকা নাবিকদের নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার জন্য সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছিল। নাবিকেরা ট্যাঙ্কারগুলি ছেড়ে চলে যাওয়ার পর জাহাজগুলি আর নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করতে পারেনি। এরপরই সেগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে সেন্টকম। হামলার ছবি নিজেদের এক্স হ্যান্ডলে প্রকাশ করেছে সেন্টকম।

আমেরিকার বাহিনীর অভিযোগ, ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ওই তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলিকে কয়েক হাজার কোটি ডলারের একটি ‘গোপন নেটওয়ার্ক’-এর অংশ হিসেবে ব্যবহার করছিল। ওই তেল বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ আইআরজিসি এবং তাদের ‘ছায়াসঙ্গী’ গোষ্ঠীগুলিকে অর্থ জোগাতে কাজে লাগানো হচ্ছিল বলেও দাবি সেন্টকমের। আমেরিকার বাহিনীর আরও দাবি, এই হামলা ঠেকানোর মতো ক্ষমতা বর্তমানে ইরানের নেই। উল্লেখ্য, মাত্র তিন দিন আগেও আমেরিকার বাহিনী ইরানের তিনটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানোর দাবি করেছিল।

তবে ইরানও আমেরিকার হামলার পাল্টা জবাব দিয়েছে। জর্ডনে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে তেহরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। যদিও পরে জর্ডনের তরফে দাবি করা হয়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র আটকে দিয়েছে। তবে তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা ‘চুপ’ করে বসে থাকবে না। কুয়েত ও বাহরিনেও ইরান হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। একই সঙ্গে কুয়েত ও বাহরিনের বন্দরে থাকা আমেরিকার তেলবাহী জাহাজগুলির নাবিকদের আইআরজিসি সতর্ক করেছে। ফলে ইরান-আমেরিকা সংঘাত ঘিরে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা আরও বাড়ছে।

দীর্ঘদিন ধরেই আমেরিকা ও ইরানের সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্র হরমুজ় প্রণালী। গত ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের যৌথ বাহিনী ইরানে হামলা চালায়। ওই অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হন বলে দাবি করা হয়। তার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত। এর মধ্যে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে থাকা আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিগুলিকে ইরান একের পর এক নিশানা করেছে। হরমুজ প্রণালীতেও একাধিক বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজ আক্রান্ত হয়েছে। আমেরিকার লক্ষ্য, ইরানকে অর্থনৈতিক ও সামরিক ভাবে এমন জায়গায় নিয়ে যাওয়া, যাতে তেহরান আর পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ধরে রাখতে না পারে। পাশাপাশি, ইরানের নেতৃত্বে পরিবর্তনের দাবিও জানিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দুই দেশের সংঘাত থামাতে আন্তর্জাতিক স্তরে কূটনৈতিক ও মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাও চলছে। তবে গত কয়েক দিনে হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন এলাকায় ফের উত্তেজনা বাড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।


Share