Extortion

টোটো নিবন্ধনের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ, টাকা ফেরতের দাবিতে সরব শান্তিপুরের চালকরা

শান্তিপুরে টোটো নিবন্ধনের নামে চালকদের কাছ থেকে ১,৬৫০ থেকে ২,০০০ টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। চালকদের দাবি, টাকা নেওয়া হলেও নির্দিষ্ট রুট বা প্রশাসনিক সুবিধা মেলেনি। তাই তাঁর বর্তমান সরকারের কাছে দ্রুত টাকা ফেরত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

টাকা ফেরতের দাবিতে সরব চালকরা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, শান্তিপুর
  • শেষ আপডেট: ০২ আগস্ট ২০২৬ ১১:১০

নদিয়ার শান্তিপুরে টোটো নিবন্ধনের নামে চালকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। স্থানীয় টোটো চালকদের দাবি, তৎকালীন সরকার, শান্তিপুর পুরসভায় টোটো ইউনিয়নের নাম করে রেজিস্ট্রেশনের অজুহাতে তাঁদের কাছ থেকে দফায় দফায় টাকা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই অর্থের বিনিময়ে আজও তাঁরা পাননি নির্দিষ্ট রুট বা প্রত্যাশিত প্রশাসনিক সুবিধা। তাই বর্তমানে সেই টাকা ফেরতের দাবিতে চালকরা সরব হয়েছেন।

বাইগাছি বাইপাস স্ট্যান্ডের টোটো চালক রিপন দেবনাথ এবং নতুনহাট এলাকার চালক শান্তনু পাল জানান, পুলিশের হয়রানি, জরিমানা কিংবা গাড়ি আটক হওয়ার আশঙ্কায় বাধ্য হয়েই তাঁরা ১,৬৫০ থেকে ২,০০০ টাকা পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন ও অন্যান্য খাতে জমা দিয়েছিলেন। অনেকেরই অভিযোগ, সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে সেই টাকা জোগাড় করতে হয়েছে। পরবর্তীতে শান্তিপুর পুরসভার মাধ্যমে লাইসেন্স নবীকরণ এবং অন্যান্য ফি-ও নেওয়া হয়। কিন্তু অর্থ জমা দেওয়ার পরেও পরিবহন দফতরের পক্ষ থেকে কোনও নির্দিষ্ট রুট বা কার্যকর ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও অবৈধ ও নিয়ন্ত্রণহীন টোটোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে তাঁদের জীবিকা নির্বাহ করতে হচ্ছে বলে দাবি ওঠে।

এই প্রসঙ্গে ভারতীয় মজদুর সংঘের শান্তিপুর ব্লক প্রতিনিধি নারায়ণ কর অভিযোগ করেন, নিবন্ধনের নামে পুলিশি চাপ এবং তৎকালীন সরকারের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে টোটো শ্রমিকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করা হয়েছে। তাঁর দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া উচিত। পাশাপাশি তৎকালীন পরিবহনমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন প্রতিনিধিদের ভূমিকাও তিনি খতিয়ে দেখার দাবি জানান।

টোটো চালকদের বক্তব্য, তাঁদের কাছ থেকে যে অর্থ নেওয়া হয়েছিল, বর্তমান সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতির ভিত্তিতে সেই টাকা দ্রুত ফেরত দেওয়া হোক। দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে স্মারকলিপি প্রদান থেকে শুরু করে বৃহত্তর আন্দোলনের পথেও তাঁরা হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছেন।


Share