BLO Disappearance

ভোটার তালিকা সংশোধনের দায়িত্বেই বিপত্তি! কাটোয়ায় নিখোঁজ শিক্ষক-বিএলও অমিত মণ্ডল, থানায় দায়ের মিসিং ডায়েরি

ভোটার তালিকা সংশোধনের শুনানির আগে নিখোঁজ কাটোয়ার বিএলও অমিতকুমার মণ্ডল। তিন দিনেও হদিস নেই। বাড়িতে মিলেছে ফোন ও নথি। উদ্বিগ্ন পরিবার-প্রশাসন, শুরু রাজনৈতিক তরজা।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কাটোয়া
  • শেষ আপডেট: ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ০১:১২

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন সংক্রান্ত শুনানির ঠিক আগে নিখোঁজ হয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায়। গত দু’দিন ধরে কোনও খোঁজ না মেলায় প্রশাসন ও পরিবারের উদ্বেগ বাড়ছে।

নিখোঁজ বিএলওর নাম অমিতকুমার মণ্ডল। তিনি কাটোয়া–১ ব্লকের খাজুরডিহি পঞ্চায়েতের বিকিহাট এলাকার বাসিন্দা। পেশায় শিক্ষক অমিত কেতুগ্রামের উদ্ধারণপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত এবং কাটোয়া বিধানসভার ২৩ নম্বর বুথের বিএলও হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল প্রায় ১০টা নাগাদ বাজার থেকে বাড়ি ফিরে মোটরবাইক রেখে অমিত জানান, বিএলও সংক্রান্ত একটি বৈঠকে যাচ্ছেন। এরপর বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেননি তিনি। বিকেল গড়িয়ে গেলেও যোগাযোগ না হওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে পরিবার। খোঁজ নিতে গিয়ে বাড়িতেই পড়ে থাকতে দেখা যায় তাঁর মোবাইল ফোন, বিএলও পরিচয়পত্র এবং এসআইআর সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি।

আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের কাছে খোঁজ করেও কোনও সন্ধান না মেলায় মঙ্গলবার রাতেই কাটোয়া থানায় পরিবারের পক্ষ থেকে মিসিং ডায়েরি করা হয়। তবে তিন দিন পেরিয়েও অমিতের কোনও হদিস মেলেনি। কী কারণে তিনি নিখোঁজ হলেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

পরিবারের দাবি, বিএলওর দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই মানসিক চাপে ছিলেন অমিত। সূত্রের খবর, তাঁর দায়িত্বে থাকা ২৩ নম্বর বুথে মোট ৬৪১ জন ভোটার রয়েছেন। শুনানির জন্য তিনি ৩৩ জন ভোটারকে নোটিস দিয়েছিলেন। আগামী দু’দিনের মধ্যেই শুনানি শুরু হওয়ার কথা, যেখানে বিএলওর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। তার আগেই তাঁর নিখোঁজ হয়ে যাওয়ায় প্রশাসনিক স্তরেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। কাটোয়া মহকুমা শাসক অনির্বাণ বসু জানান, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও। বিজেপির জেলা নেত্রী সীমা ভট্টাচার্য বলেন, “এই ঘটনায় আমরা বিশেষ চিন্তিত নই। হতে পারে শাসক দলের চাপে ওই বিএলও অনেক নাম শুনানিতে ডাকতে বাধ্য হয়েছেন। সেই কারণেই এখন গা ঢাকা দিয়েছেন। কাটোয়ার প্রশাসন যদি সিসিটিভি নিয়ে এতটাই আত্মবিশ্বাসী হয়, তা হলে তারা দ্রুত তাঁকে খুঁজে বের করুক।” 

অন্য দিকে, তৃণমূলের পূর্ব বর্ধমান জেলা সভাপতি তথা কাটোয়ার বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত চাপে বিএলও-রা দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। এই খবর শুনে আমরাও অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। আমরা আমাদের মতো করে খোঁজ চালাচ্ছি এবং প্রশাসনকেও অনুরোধ করছি যত দ্রুত সম্ভব তাঁকে খুঁজে বার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। এটা মূলত নির্বাচন কমিশনের চাপেরই ফল।”


Share