Murder Case

বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে বন্ধুকে খুন! পূর্ব বর্ধমানে গ্রেফতার স্ত্রী ও বন্ধু

পূর্ব বর্ধমানের দেওয়ানদিঘি থানা এলাকায় বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে এক ব্যক্তিকে খুনের অভিযোগ উঠেছে। মিলিকপাড়ার সেচখালের ধারে রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয় সফিকুল ইসলাম আনসারির।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, দেওয়ানদিঘি
  • শেষ আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:৩৩

পূর্ব বর্ধমানের দেওয়ানদিঘি থানা এলাকায় এক ব্যক্তিকে খুনের অভিযোগে উঠেছে। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এমন বিপত্তি। ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন মৃতের স্ত্রী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম সফিকুল ইসলাম আনসারি (৪৪)। স্থানীয়ভাবে আরিফ নামেই পরিচিত। তিনি দেওয়ানদিঘির বাসিন্দা। কর্মসূত্রে চেন্নাইয়ের একটি সোনার দোকানে কাজ করতেন। প্রায় এক মাস আগে তিনি বাড়িতে ফিরেছিলেন। কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁর ফের চেন্নাই যাওয়ার কথা ছিল। ট্রেনের টিকিটও কাটা ছিল। তবে হঠাৎ করেই তিনি যাত্রা বাতিল করেন। এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কোনও পারিবারিক অশান্তি বা অন্য কারণ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

রবিবার সকালে স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা ও কন্যাকে নিয়ে তিনি মিলিকপাড়ায় বন্ধু মমতাজউদ্দিন শেখ ওরফে উজ্জ্বলের বাড়িতে নিমন্ত্রণে যান। অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পিত ভাবেই তাঁদের ডাকা হয়েছিল। সন্ধ্যার দিকে উজ্জ্বল একটি সামগ্রী কেনার অজুহাতে আরিফকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। পরে মিলিকপাড়ার একটি সেচখালের ধারে আরিফের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। খবর পেয়ে পুলিশ দেহ উদ্ধার করে। দেহটিকে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অর্ক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ভারী কোনও বস্তু দিয়ে আঘাত করার ফলেই মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান। মৃতের মা মাস্তন্নিসা আনসারি অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। এতে পুত্রবধূর ভূমিকা রয়েছে। পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আরিফের স্ত্রী ও বন্ধু উজ্জ্বলকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। জানা গিয়েছে, উজ্জ্বলও বিবাহিত। পেশায় তিনি ব্যবসায়ী।

পুলিশ সূত্রে খবর, প্রাথমিক তদন্তে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের সূত্র মিলেছে। ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। পুরো ঘটনার নেপথ্যে আর কী কী কারণ রয়েছে, তা জানতে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে। ঘটনায় শোকস্তব্ধ পরিবার ও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। তদন্তের অগ্রগতির দিকেই এখন নজর রয়েছে।


Share