Kalyan Banerjee

‘কল‍্যাণের অহংকারের পতন’, উত্তরপাড়ায় সাংসদ পুত্র হারতেই দাড়ি কামিয়ে নিলেন প্রভাবশালী বিজেপি নেতা অচ্ছেলাল যাদব

২০২১ সালে দলেরই এক অভ্যন্তরীণ সভায় উপস্থিত ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, আচ্ছেলাল যাদব-সহ তৃণমূলের অন্যান্য কর্মীরা। অভিযোগ, সেখানেই আচ্ছেলাল যাদবকে অপমান করা হয়। সভা থেকে বেরিয়ে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেন যতদিন না কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজিত হচ্ছেন ততদিন নিজের দাড়ি কামাবেন না।

দাড়ি কামিয়ে প্রতিজ্ঞা পূরণ করলেন আচ্ছেলাল যাদব।
নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তরপাড়া
  • শেষ আপডেট: ১০ মে ২০২৬ ০৭:২১

গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জন্য দল ছেড়েছিলেন অচ্ছেলাল যাদব। ভরা তৃণমূল বাজারে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। পন করেছিলেন যতদিন না তৃণমূল সাংসদ কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজিত হচ্ছেন ততদিন নিজের দাড়ি তিনি কামাবেন না। বিজেপি প্রার্থীর কাছে সংসদ পুত্র শীর্ষাণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজিত হতেই নিজের দাড়ি কেটে প্রতিজ্ঞা পূরণ করলেন তিনি। 

রবিবার দুপুরে অচ্ছেলাল পাঁচ বছর ধরে বড় হওয়া নিজের ফুট খানেক লম্বা দাড়ি কামিয়ে নিয়েছেন। সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের আরও একাধিক কর্মী-সমর্থক। পাঁচ বছর আগে ২০২১ সালে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মনমালিন্য হয়েছিল। ওই বছর উত্তরপাড়ার একটি কর্মী সম্মেলনে কল‍্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ে সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। অভিযোগ ছিল, দলের কর্মীদের অপমান করতেন সাংসদ।

২০২১ সালে দলেরই এক অভ্যন্তরীণ সভায় উপস্থিত ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, অচ্ছেলাল যাদব, কোতরং পুরসভার চেয়ারম্যান দিলীপ যাদব-সহ তৃণমূলের অন্যান্য কর্মীরা। অভিযোগ, সেখানেই অচ্ছেলাল যাদবকে অপমান করা হয়। সভা থেকে বেরিয়ে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেন যতদিন না কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজিত হচ্ছেন ততদিন নিজের দাড়ি তিনি কামাবেন না। তৃণমূলের সময় অচ্ছেলাল যাদব উত্তরপাড়ার প্রভাবশালী নেতা বলেই পরিচিত। বিধানসভা নির্বাচনে ঠিক আগে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসলের হাত ধরে বিজেপিতে যোগদান করেন তিনি।

বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবি হয়েছে। পরাজিত হয়েছেন কল্যাণ পুত্র শীর্ষাণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তরপাড়া থেকে বিজেপি প্রার্থী দীপাঞ্জন চক্রবর্তীর কাছে ১০ হাজার ৪১৫ ভোটে পরাজিত হয়েছেন তিনি। শীর্ষাণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পরাজয়কেই কল্যাণের পরাজয় হিসেবে তিনি দেখছেন। তিনি মনে করেন, কল‍্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অহংকারের পতন হয়েছে। ফলে নিজের দাড়ি কামিয়ে আজ তার প্রতিজ্ঞা পূরণ করলেন। 

উল্লেখ্য, অচ্ছেলাল যাদব উত্তরপাড়া বিধানসভার অন্তর্গত কানাইপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন তৃণমূলের প্রধান ছিলেন। তারও আগে অচ্ছেলাল উত্তরপাড়া-শ্রীরামপুর পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সহ-সভাপতি ছিলেন। তার ভাই, দিলীপ যাদব উত্তরপাড়ার কোতরং পুরসভার তৃণমূলের চেয়ারম্যান। এলাকার দাপুটে তৃণমূল নেতা বলেই তাঁর পরিচিতি রয়েছে। শ্রীরামপুরের রাজনীতিতে অচ্ছেলাল যাদব কল‍্যাণ বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়ের বিরুদ্ধে বলেই পরিচিতি রয়েছে।

গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে অচ্ছালাল যাদবকে টিকিট দেয়নি দল। অচ্ছেলালের ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্য তিনি সেই নির্বাচনে জেলা পরিষদের টিকিটে দাঁড়াতে ইচ্ছুক ছিলেন। কিছু দল তাঁকে টিকিট না দিয়ে সাংসদ কল‍্যাণ ঘনিষ্ঠ নিখিল চক্রবর্তীকে টিকিট দিয়েছিল দল। তার পর থেকেই দলের সঙ্গে দুরত্ব তৈরি হয়। দল তাঁকে শ্রীরামপুর-উত্তরপাড়া ব্লকের সম্পাদকও করেছিল।

অচ্ছেলালের ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে এ-ও জানা যায়, গত লোকসভা নির্বাচনে তিনি দলের হয়ে কার্যত নিস্প্রভ থেকেছেন। তার ওপর বিধানসভা নির্বাচনের আগে কোন্নগরের আদর্শনগরের তাঁর কার্যালয়ে ব‍্যারাকপুরের বিজেপি নেতা তথা নেয়াপাড়ার প্রার্থী অর্জুন সিংহকে আসতে দেখা যায়। তখন থেকেই আনুষ্ঠানিক ভাবে তৃণমূল ছাড়ার জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তার পরেই বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জল্পনা শুরু হয়। বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট ঘোষণা হতেই নির্দলে মনোনয়ন দাখিল করেন। যদিও পরে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন অচ্ছেলাল। পরে বিজেপিতে যোগদান করেন।


Share