Body Recovery

নদিয়ার কল্যাণীতে বিজেপির বুথ সভাপতির ছেলের রহস্যমৃত্যু, হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ

বিজেপির অভিযোগ, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক খুন। দলের দাবি, স্থানীয় দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব থাকায় বিকাশ শিকদারকে টার্গেট করা হয়েছিল।

স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ভিড় জমান।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কল্যাণী
  • শেষ আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬ ০৮:৩২

নদিয়ায় এক বিজেপি কর্মীর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কল্যাণী থানার সাহেববাগান-সগুনা ডেঙ্গুর পাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। মৃতের নাম বিকাশ শিকদার (৪২)। তাঁর বাড়ি কল্যাণী থানার মুরাতিপুর এলাকায়। সোমবার বাড়ি থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে একটি আমবাগান থেকে তাঁর হাত-পা বাঁধা ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এটি আত্মহত্যা নাকি খুন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিকাশ শিকদার এলাকার একজন সক্রিয় বিজেপি কর্মী ছিলেন। তাঁর বাবা বীরেন শিকদার কল্যাণীর মুরাতিপুর এলাকার ১২৭ নম্বর বুথের বিজেপি সভাপতি। ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ভিড় জমান। খবর পেয়ে কল্যাণী থানার পুলিশ এবং বিজেপির নেতা-কর্মীরা সেখানে পৌঁছোয়।

পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে পরে ময়নাতদন্তের জন্য কল্যাণী এইমসে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা মিলবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

এ দিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, এটি কোনও আত্মহত্যার ঘটনা নয়, বরং একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক খুন। দলের স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, বিভিন্ন স্থানীয় দুর্নীতির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সরব ছিলেন বিকাশ শিকদার। সেই কারণেই তাঁকে পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হয়েছে। বিজেপির আরও অভিযোগ, এর আগেও তাঁকে শারীরিক হেনস্থা করা হয়েছিল। তাঁর দোকানে ভাঙচুর চালানো হয়েছিল।

অন্য দিকে, মৃতের পরিবারের সদস্যরাও মৃত্যুর ঘটনায় প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের দাবি, ঘটনাটি স্বাভাবিক নয়। এর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। বিজেপিও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, ফরেনসিক প্রমাণ এবং তদন্তের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।


Share