Attempt To Suicide

আত্মহত্যার চেষ্টা কালীগঞ্জে নির্বাচনী হিংসায় নিহত তমন্না খাতুনের মার, শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল, জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা

অভিযোগ, তমন্নার বাবাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সন্তানের পর স্বামীকেও হারাতে হতে পারে, এই আতঙ্ক গ্রাস করেছিল সাবিনাকে। মানসিক চাপ তিনি আর সহ্য করতে পারছিলেন না। তাই ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

( বাঁম দিকে) সাবিনা বিবি, (ডান দিকে) তামান্না খাতুন
নিজস্ব সংবাদদাতা, কালীগঞ্জ
  • শেষ আপডেট: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৩:০৬

নদিয়ার কালীগঞ্জে নির্বাচনী হিংসায় নিহত চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী তমন্না খাতুনের মা সাবিনা বিবি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে অত্যধিক মাত্রায় ঘুমের ওষুধ খেয়ে ফেলেন তিনি। পরিবারের অভিযোগ, লাগাতার হুমকির চাপে পড়ে এমন সিদ্ধান্ত নেন তামান্নার মা। সন্তান হারানোর যন্ত্রণার সঙ্গে হুমকি এবং আতঙ্ক নিতে পারেননি সাবিনা। তাই চূড়ান্ত পদক্ষেপ করেছেন। হাসপাতাল সূত্রের খবর, আপাতত তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।

জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে কালীগঞ্জের বাড়িতে অচৈতন্য অবস্থায় সাবিনাকে উদ্ধার করা হয়। গভীর রাতে নিয়ে যাওয়া হয় পলাশির প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে তাঁকে স্থানান্তরিত করা হয়। ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তবে আপাতত তিনি বিপদমুক্ত রয়েছেন। পরিবার সূত্রে দাবি, একসঙ্গে অনেকগুলি ঘুমের ওষুধ খেয়ে ফেলেছিলেন তমন্নার মা। নিজেকে শেষ করে দিতে চেয়েছিলেন। তমন্নার খুনের পর অনেক অভিযুক্ত অধরা বলে দাবি করেছেন সাবিনার পরিবারের সদস্যেরা। অভিযোগ, ওই দুষ্কৃতীরাই প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। তাই তাঁদের প্রাণের আশঙ্কায় দিন কাটাতে হচ্ছে।

তমন্নার বাবা হুসেন শেখ জানিয়েছেন, এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি সাবিনা। বিচারের আশায় একা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। হুসেনের কথায়, “চোখের সামনে মেয়ের মৃত্যুর দৃশ্য ও ভুলতে পারেনি এখনও। বোমার আঘাতে মেয়ের ছিন্নভিন্ন দেহের ছবি এখনও ওঁর চোখে ভাসে। এই মানসিক অবস্থাতেও আমরা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। বেশ কিছু আসামি এখনও অধরা। আমাদের পরিবারকে তারা নিয়মিত হুমকি দিচ্ছে। তমন্নার মা তাই এখন আমার জীবন নিয়ে আতঙ্কিত। তাই রাতে অনেক ঘুমের ওষুধ খেয়ে ফেলেছিল। এখন চিকিৎসা চলছে।”

গত ১৯ জুন কালীগঞ্জে বিধানসভার উপনির্বাচন ছিল। ২৩ জুন ছিল ভোটের ফলঘোষণা। গণনা সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই কালীগঞ্জে তৃণমূলের প্রার্থীর জয় একপ্রকার নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। সে দিন সময়ের আগেই বেরিয়েছিল শাসকদলের বিজয়মিছিল। অভিযোগ, সেখান থেকে স্থানীয় সিপিএম সমর্থকদের বাড়ি লক্ষ্য করে বোমা ছোড়া হয়। দুস্কৃতীদের বোমার আঘাতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ১০ বছরের তমন্নার।

এখনও পর্যন্ত তমন্নার খুনে মূল অভিযুক্ত-সহ ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, আরও অনেকে এখনও জেলের বাইরে রয়েছে। অভিযোগ, তাঁরাই তমন্নার পরিবারকে লাগাতার হুমকি দিচ্ছেন। যে কারণে সাবিনা অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।


Share