Murder

নৃশংস মা! বসিরহাটে বাঁশবাগানে শ্বাসরোধ করে মেয়েকে খুন, গ্রেফতার অভিযুক্ত

শুক্রবার সকালে শাশুড়ির সঙ্গে বচসার পর তিনি মেয়েকে নিয়ে বাড়ির কাছের একটি বাঁশবাগানে যান। অভিযোগ, সেখানেই শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বসিরহাট
  • শেষ আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬ ১১:০৮

পারিবারিক অশান্তির জেরে ১৯ মাসের কন্যাশিশুকে শ্বাসরোধ করে খুন। এমন নৃশংস অভিযোগ উঠল কন্যার মায়ের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে বসিরহাট থানার তেঘরিয়া গ্রামে। শুক্রবার সকালে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্ত মা রিয়া কর্মকারকে গণধোলাই দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে। এরপর অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।

জানা গিয়েছে, মৃত শিশু নাম শ্রীনন্দা কর্মকার। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য বসিরহাট জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, কয়েক বছর আগে হাসনাবাদ থানার ভেবিয়া এলাকার বাসিন্দা রিয়ার সঙ্গে হাড়োয়ার বাসিন্দা রবিন কর্মকারের বিয়ে হয়। কন্যাসন্তানের জন্মের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি শুরু হয়। প্রায় এক মাস আগে মেয়েকে নিয়ে বসিরহাটের তেঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা অজয় মণ্ডলকে বিয়ে করে তাঁর বাড়িতে থাকতে শুরু করেন রিয়া।

পরিবারের অভিযোগ, রিয়া প্রায়ই শিশুকন্যাকে মারধর করতেন। শুক্রবার সকালে শাশুড়ির সঙ্গে বচসার পর তিনি মেয়েকে নিয়ে বাড়ির কাছের একটি বাঁশবাগানে যান। অভিযোগ, সেখানেই শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ঘটনার পর রিয়া বাড়িতে ফিরে এসে নিজেই জানান যে তিনি মেয়েকে মেরে ফেলেছেন। এরপর এলাকাবাসী বাঁশবাগানে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে বসিরহাট জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ জনতা রিয়া কর্মকারকে ধরে মারধর শুরু করে। খবর পেয়ে বসিরহাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

ধৃতের দ্বিতীয় পক্ষের স্বামী অজয় মণ্ডলের দাদা বাবাই মণ্ডল জানান, তাঁদের পরিবারে শিশুটির যথেষ্ট যত্ন নেওয়া হতো। তাঁর দাবি, সকালে পারিবারিক অশান্তির পর রিয়া মেয়েকে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান এবং পরে ফিরে এসে শিশুটিকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।


Share