Suvendu Adhikari

এসএসকেএমে দালালচক্র বরদাস্ত করা হবে না, অকারণে কাউকে রেফার নয়, রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকে নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

জানা গিয়েছে, তাঁর নির্দেশে ইতিমধ্যেই হাসপাতালে ১০০টি শয্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবুও শয্যার অভাবে রোগীদের যাতে কোনও ভোগান্তির মুখে পড়তে না হয়, সে বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬ ১২:০০

ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবেই বৃহস্পতিবার এসএসকেএম হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর এ দিনই অনুষ্ঠিত হয় এসএসকেএমের রোগী কল্যাণ সমিতির প্রথম বৈঠক। প্রায় এক ঘণ্টার এই বৈঠকে স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম, স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তা ইন্দ্রজিৎ সাহা-সহ স্বাস্থ্য দফতরের শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে রোগী পরিষেবা ও শয্যা-সংকটের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দেন, বিনা কারণে কোনও রোগীকে যেন হাসপাতাল থেকে ফিরিয়ে দেওয়া না হয় বা অন্যত্র রেফার না করা হয়। জানা গিয়েছে, তাঁর নির্দেশে ইতিমধ্যেই হাসপাতালে ১০০টি শয্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবুও শয্যার অভাবে রোগীদের যাতে কোনও ভোগান্তির মুখে পড়তে না হয়, সে বিষয়টিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ ছিল, রাজ্যের অন্যতম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল হওয়া সত্ত্বেও বহু রোগীকে, বিশেষত রাতের দিকে, শয্যার অভাব দেখিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসার পর বহির্বিভাগে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়। সেই পরিস্থিতির পরিবর্তনেই জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

বৈঠকে হাসপাতাল চত্বরে দালাল চক্রের সক্রিয়তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সরকারি হাসপাতালগুলিতে দালালদের দৌরাত্ম্য রুখতে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এসএসকেএমের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কোনও অবস্থাতেই এই ধরনের চক্রকে সক্রিয় হতে না দেওয়ার বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

তৃণমূল জমানায় দীর্ঘদিন ধরেই এই হাসপাতাল নিয়ন্ত্রণ করতেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। টাকা নিয়ে রোগী ভর্তি, বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নিচুতলার কিছু লোককে রেখে কার্যত সিন্ডিকেটরাজ চালানো হত। তা যে আর বরদাস্ত করা হবে না তা-ও স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

এ দিনের বৈঠকে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের প্রধান চিকিৎসক, ছাত্র প্রতিনিধি এবং পুলিশ আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন। হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং বাঙুর ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস (বিআইএন)-এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী হাসপাতাল ত্যাগ করার পর হাসপাতালের আধিকারিকরা নিজেদের মধ্যে আরও একটি বৈঠক করেন।


Share