Firhad Hakim

মেয়াদ শেষের আগেই কলকাতার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা ফিরহাদ হাকিমের

ফিরহাদ হাকিম জানান, মেয়র ও পুরমন্ত্রী—দুই পদে থাকাকালীন পুরসভার প্রকল্পগুলির অনুমোদন দ্রুত করানো সম্ভব হত। বর্তমানে সেই দায়িত্ব না থাকায় প্রশাসনিক কাজে কিছু সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

কলকাতা পৌরসভার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ হাকিম।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬ ০৮:৩২

কলকাতা পুরসভায় মেয়র পদের ইতি টানলেন ফিরহাদ হাকিম। শুক্রবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা করেন। পরে কলকাতা পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায়ের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ফিরহাদ বলেন, মেয়র হিসেবে কিছু কাজ এখনও অসম্পূর্ণ রয়ে গিয়েছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে সেই কাজগুলি সম্পূর্ণ হবে। যদিও তখন তিনি আর দায়িত্বে থাকবেন না। একইসঙ্গে মেয়র হিসেবে নিজের কাজের মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি জানান, কোভিড মহামারি সময় টিকার ট্রায়াল তিনি প্রথম নিজের দেহে নিয়েছেলন।আমফানের মত ঘূর্ণি ঝড়ের সময় পরিস্থিতি সামলেছিলেন। যে গুলি তাঁর প্রশাসনিক জীবনের একএকটা বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন। বেআইনি নির্মাণ রোধ ও নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়নেও পুরসভা উল্লেখযোগ্য কাজ করেছে বলে তিনি দাবি করেন।

ইস্তফার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ফিরহাদ বলেন, একসময় তিনি একইসঙ্গে মেয়র ও রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। ফলে পুরসভার বিভিন্ন প্রকল্প দ্রুত অনুমোদন করানো সম্ভব হত। বর্তমানে সেই পরিস্থিতি না থাকায় প্রশাসনিক কাজকর্মে কিছু সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। 

বক্তব্যের এক পর্যায়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ফিরহাদ। তিনি তাঁর শেষ না হওয়া কাজটির কোথাও উল্লেখ করেন। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর স্মৃতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে ঠনঠনিয়া কালীবাড়ির রাস্তায় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু পা পর্যন্ত বুট পরে জলের মধ্যে হেঁটে ছিলেন। সেই রাস্তার কাজ কিছুটা হলেও এখনও সম্পন্ন হয়নি বলেই তিনি জানান। ফলত সেটার উদ্বোধনেও তাঁর থাকা হলো না। পরবর্তীতে এই কাজ সম্পন্ন হবে বলেই তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। মহানাগরিকের ঐতিহাসিক চেয়ারকে সম্মান জানাতেই তিনি পদ আঁকড়ে রাখতে চাননি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, গত কয়েক দিন ধরেই তাঁর পদত্যাগ নিয়ে জল্পনা চলছিল। তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ দাবি করেছিলেন, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ফিরহাদের এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি মেয়র পদ ছাড়ার ইচ্ছা আগেই প্রকাশ করেছিলেন। যদিও পরে ফিরহাদ নিজে জানিয়েছিলেন, তখনও তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। ফলে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।

ফিরহাদের পদত্যাগের আগে সম্প্রতি বিধাননগর পুরনিগমের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী এবং চন্দননগরের মেয়র রাম চক্রবর্তীও পদ ছেড়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার কলকাতার মেয়রের ইস্তফা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

কলকাতা পুরসভার সঙ্গে ফিরহাদ হাকিমের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ৮২ নম্বর ওয়ার্ড থেকেই তাঁর রাজনৈতিক উত্থান। ২০০০, ২০০৫ এবং ২০১০ সালে টানা তিনবার ওই ওয়ার্ড থেকে তৃণমূলের কাউন্সিলর হিসাবে তিনি নির্বাচিত হন। ২০১৫ সালে পুরভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলেও ২০১৮ সালে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের পদত্যাগের পর মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর উপনির্বাচনে এবং ২০২১ সালের পুরভোটে ফের ৮২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে জয়ী হন।

২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর প্রথমবার কলকাতার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন ফিরহাদ হাকিম। প্রায় সাড়ে সাত বছরের দায়িত্বকাল শেষ করলেন ববি। তাঁর পদত্যাগে কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে নতুন সমীকরণের সূচনা হল বলে মনে করা হচ্ছে।


Share