FIR Against Mamata Banerjee

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ, শিলিগুড়ির সাইবার পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের

গত মঙ্গলবার কলকাতার ওয়াই চ‍্যানেলে ধর্নায় বসেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে বাংলাদেশে ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে কিছু মন্তব্য করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

(বাঁ দিক থেকে) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বাংলাদেশের নেতা ওসমান বিন হাদি
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬ ০৩:১৯

বাংলাদেশের ইসলামিক সংগঠনের নেতা ওসমান বিন হাদিকে হত্যায় ভারতের যোগসাজশের অভিযোগ করেছিলেন রাজ‍্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বার তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করলেন এক আইনজীবী। তিনি শিলিগুড়ির সাইবার পুলিশের কাছে এফআইআর দায়ের করেছেন। তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার কলকাতার ওয়াই চ‍্যানেলে ধর্নায় বসেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে বাংলাদেশে ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে কিছু মন্তব্য করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই ঘটনায় তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ভারত সরকারের যোগসাজশ রয়েছে বলে দাবি করেছিলেন। মমতার দাবি ছিল, তাঁর কাছে এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের গোপন তথ‍্য রয়েছে। তিনি তা জানেন। কিন্তু সেই তথ‍্য কারোর সামনে ফাঁস করবেন না বলেও মন্তব্য করেন। মমতা সেদিন এ-এ দাবি করেন, তিনি নাকি তথ‍্যের ভান্ডার। তিনি তথ‍্যের মধ‍্যেই থাকতে পছন্দ করেন।

এর পরেই তাঁর বিরুদ্ধে শিলিগুড়ি পুলিশের সাইবার অপরাধ বিভাগে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। কলকাতা হাই কোর্টের আইনজীবী রিঙ্কু চট্টোপাধ্যায় সিংহ নামে এক মহিলা আইনজীবী এই অভিযোগ করেছেন। আইনজীবী রিঙ্কুর অভিযোগ, মমতার এই মন্তব্যগুলি বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কে অবনতি হতে পারে। এমন ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ মন্তব্য দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। জাতীয় অখণ্ডতাকে ক্ষুণ্ণ করছে। এমনকী, সীমান্তের ওপারে বসবাসকারী হিন্দুদের নিরাপত্তাকে বিপন্ন করতে পারে।

প্রসঙ্গত, এক সপ্তাহ আগেই আইনজীবী রিঙ্কু চট্টোপাধ্যায় সিংহ শিলিগুড়ি সাইবার পুলিশের কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আরও একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। যা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। আইনজীবী রিঙ্কু চট্টোপাধ্যায় সিংহ সেইসময় বলেন, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লেগেছিল।” ইতিমধ্যেই পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। 

সেই অভিযোগপত্রে দু’টি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। প্রথমটি, ২০২৫ সালের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্য পেশ করেছিলেন মমতা। সেই নিয়ে বিতর্কও হয়েছিল। দ্বিতীয় মন্তব্যটি তিনি করেছিলেন ভোটের আগে ধর্মতলার ধর্না মঞ্চ থেকে। রিঙ্কু লেখেন, “এই সব মন্তব্যে শুধু ভারত নয়, গোটা বিশ্বের কোটি কোটি সনাতনী মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস এবং অনুভূতিতে গভীর ভাবে আঘাত লেগেছে।”


Share