Cash Recorded From Bardhaman Station

ট্রেন থেকে নামার সময় সন্দেহ হতেই তল্লাশি, বর্ধমান স্টেশনে ১৮ লক্ষ টাকা উদ্ধার, আটক এক ব্যক্তি

বর্ধমান স্টেশনে অকাল তখত এক্সপ্রেস থেকে নামতেই এক মাঝবয়েসী ব্যক্তির সন্দেহজনক আচরণে নজর যায় আরপিএফ-এর। তল্লাশি চালিয়ে তাঁর ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয় প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বর্ধমান
  • শেষ আপডেট: ২৭ নভেম্বর ২০২৫ ০৭:০১

বর্ধমান স্টেশনে পুলিশের অভিযান। এক ব‍্যক্তির কাছ থেকে তল্লাশি চালাতেই উদ্ধার হল প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা। বিপুল পরিমান নগদ সমেত ধরা পড়লেন এক ব্যক্তি।

বৃহস্পতিবার ভোরে বর্ধমান স্টেশনে ঢোকে ডাউন অকাল তখত এক্সপ্রেস। ট্রেন থামতেই ওই ব্যক্তি পাঁচ নম্বর প্ল্যাটফর্মে নামেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই তাঁর আচরণে আরপিএফ-এর টহলরত কর্মীদের সন্দেহ হয়। এর পরেই তারা ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ব্যাগ তল্লাশিও শুরু হয়। ব্যাগ খুলতেই অবাক হয়ে যান পুলিশ।দাবি, তাতে গোছা গোছা নোট! গুনে দেখা যায়, প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা।

আরপিএফ সূত্রে খবর, সেই সম প্ল্যাটফর্মে চলছিল রুটিন নজরদারি। বিশেষ নজর ছিল দীর্ঘদূরপাল্লার ট্রেন থেকে নামা যাত্রীদের উপর। কর্মরত কর্মীদের দাবি, ওই ব্যক্তি নামতেই অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন। বারবার চারদিকে তাকাচ্ছিলেন তিনি। তড়িঘড়ি স্টেশন ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। সন্দেহ হওয়ায় আরপিএফ তাঁকে থামায়। তল্লাশি চালিয়েই মেলে বিপুল অঙ্কের নগদ টাকা।

জিজ্ঞাসাবাদে প্রথমে কোনও সুস্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি অভিযুক্ত। পরে জানান, তিনি মূলত সোনার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে পটনার একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করেন। সেই সূত্রেই তিনি পটনা থেকে নগদ টাকা নিয়ে রওনা হয়েছিলেন। গন্তব্য ছিল কলকাতার বউবাজারের একটি পাইকারি দোকান। কিন্তু ব্যাগটি কোথা থেকে এসেছে, টাকার মালিক কে, বা কোনও বৈধ নথি—এগুলির কোনওটিই তিনি সন্তোষজনকভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেননি। 

আরপিএফ-এর একজন আধিকারিক বলেন, “এত বড় অঙ্কের নগদ টাকা বহনের ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী কাগজপত্র থাকা বাধ্যতামূলক। তাঁর কাছ থেকে কোনও নথি পাওয়া যায়নি।”

এই ঘটনার পরেই তাঁকে আটক করা হয়। ব্যাগ-সহ তাঁকে জিআরপি-র হাতে তুলে দেওয়া হয়। জিআরপি সূত্রে জানানো হয়েছে, টাকার উৎস স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত ওই ব্যক্তি পুলিশের হেফাজতেই থাকবেন। টাকা বাজেয়াপ্ত করে আদালতে জমা করা হয়েছে।

পুলিশের সন্দেহ, টাকা কোনও বেআইনি লেনদেন বা হাওলা চক্রের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। পূর্বে বিহার–পশ্চিমবঙ্গ রুটে কয়েকবার হাওলার টাকা ধরা পড়েছে। তাই এই ঘটনাকেও তারা সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে। এক সিনিয়র আধিকারিক বলেন, “এত বড় অঙ্কের নগদ বহন করা, আবার কোনও নথি নেই—স্বাভাবিকভাবেই তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। টাকা কোথা থেকে এল, কার কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল—সবটাই খতিয়ে দেখা হবে।”

পুলিশ জানিয়েছে, টাকার উৎস স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত কোনও সম্ভাবনাকেই তারা উড়িয়ে দিচ্ছে না। প্রয়োজনে তদন্তে আয়কর দফতরকেও যুক্ত করা হতে পারে।


Share