Tender Cut Money

রাস্তার কাজ শেষ, তবু আটকে রোলার! পূর্ব বর্ধমানে ‘কাটমানি’ অভিযোগে তৃণমূল নেতারা বিতর্কে

পূর্ব বর্ধমানে রাস্তা নির্মাণ শেষের পর ‘কাটমানি’ না দেওয়ায় ঠিকাদারের রোড রোলার আটকানোর অভিযোগ তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে। এক লক্ষ টাকা কমিশন চাওয়ার দাবি। অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক তরজা।

রাস্তায় আটকে থাকা সরঞ্জাম
নিজস্ব সংবাদদাতা, বর্ধমান
  • শেষ আপডেট: ০১ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৪৭

জেলা পরিষদের টেন্ডারে রাস্তা নির্মাণের কাজ শেষ করার পরেও ‘কাটমানি’ না দেওয়ায় রোড রোলার-সহ নির্মাণের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি আটকে রাখার অভিযোগ উঠল তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারী ঠিকাদারের দাবি, কমিশন হিসেবে এক লক্ষ টাকা দাবি করা হচ্ছে।

অভিযোগকারী ঠিকাদার শেখ সুখচাঁদ জানান, টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরাইটিকর থেকে নতুনগ্রাম পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের বরাত পেয়েছিলেন তিনি। গত ১৮ ডিসেম্বর কাজ সম্পূর্ণ হলেও বর্ধমান-১ ব্লক তৃণমূল সভাপতি মানস ভট্টাচার্য ও সরাইটিকর অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি বাবু হাজরার নির্দেশে তাঁর রোড রোলার-সহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি আটকে রাখা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, এক লক্ষ টাকা কমিশন না দিলে ওই সামগ্রী ছাড়া হবে না।

বুধবার এই মর্মে পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি ও জেলাশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ঠিকাদার। তাঁর অভিযোগ, কাজের জন্য ভাড়া করে আনা রোড রোলার আটকে থাকায় প্রতিদিন অকারণে ভাড়া গুনতে হচ্ছে, ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।

তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ব্লক তৃণমূল সভাপতি মানস ভট্টাচার্য। তিনি জানান, তাঁর ও অঞ্চল সভাপতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি পদ ছেড়ে দেবেন। তাঁর দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়ে তিনি জেলা পরিষদ ও বর্ধমান থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন।

পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে বিজেপি। জেলা বিজেপির মুখপাত্র শান্তিরূপ দে বলেন, ‘‘টেন্ডার ডাকা থেকে তা পাশ সব ক্ষেত্রেই তৃণমূল নেতাদের কাটমানি দিতে হয়। সাধারণ মানুষ ও ঠিকাদারদের উপর জুলুমবাজি করা হচ্ছে। তৃণমূল নেতারা বিধানসভা নির্বাচনের আগে এ ভাবে শেষ কামড় দিচ্ছে।’’

প্রসঙ্গত, অভিযোগকারী ঠিকাদার এক সময় তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতা ছিলেন। অন্য দিকে, যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাঁরা-সহ ১২ জন তৃণমূল নেতা ও কর্মীকে ২০১৭ সালে এক দলীয় কর্মীর বাবাকে খুনের চেষ্টার মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে সাজা ঘোষণা করেছিল বর্ধমান আদালত। পরে হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশে তাঁদের জামিন মঞ্জুর হলেও মামলাটি এখনও বিচারাধীন।


Share