Rajraeswari Puja

রাজরাজেশ্বরী পুজো উপাখ্যান, প্রাচীন জনপদ ও লোকসংস্কৃতির এক অনন্য মিলনস্থল নদিয়া জেলা

ত্রিপুরেশ্বরী ও রাজরাজেশ্বরী দেবী শক্তির এক অভিন্ন রূপ। তন্ত্র ও পুরাণ মতে, মা রাজরাজেশ্বরী এবং মাতা ত্রিপুরেশ্বরী অভিন্ন। তাঁদের দু'জনের মধ্যে কোন অমিল নেই বলেই ভক্তবৃন্দরা মনে করেন। দশমহাবিদ্যার অন্যতম শ্রেষ্ঠ রূপ এই দেবী।

রাজেশ্বরী দেবী মূর্তি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, চাকদহ
  • শেষ আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:০৬

নদিয়া জেলার চাকদহ ব্লকের প্রিয়নগর বাংলার প্রাচীন জনপদ ও লোকসংস্কৃতির এক অনন্য মিলনস্থল। এখানকার কালীগঞ্জ বাজারে মাঘী পূর্ণিমা তিথিতে বহু প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী রাজরাজেশ্বরী পুজো ও মেলা আয়োজিত হয়। বহু দূর থেকে ভক্তবৃন্দেরা এই মেলায় আসেন। এই মেলায় ভক্তি ও শান্তি মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়।

প্রাচীন উপাখ্যান অনুযায়ী, দেবী অন্নপূর্ণা রাজাকে স্বপ্নে আদেশ দিয়েছিলেন—কাশী যাওয়ার প্রয়োজন নেই, তিনি কালীগঞ্জ সংলগ্ন গঙ্গা তীরেই অবস্থান করছেন। দেবীর নির্দেশ মেনেই কাশীর অন্নপূর্ণা মন্দিরের রীতি অনুযায়ী মাঘী পূর্ণিমায় পূজা শুরু হয়। দেবীর এই রূপই এখানে 'রাজরাজেশ্বরী' নামে খ্যাত।

মায়ের এই রূপটি অত্যন্ত দুর্লভ। আধো নিদ্রায় শায়িত মহাদেবের নাভিপদ্ম থেকে মহাশক্তি রাজরাজেশ্বরী উত্থিত হয়েছেন। যাঁর বামে গঙ্গা ও দক্ষিণে যমুনা অবস্থান করছেন। একচালা এই মূর্তির নিচে ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব ও ইন্দ্র বিরাজমান হয়ে রয়েছেন। জনশ্রুতি রয়েছে, একসময় বিধ্বংসী আগুনের হাত থেকে রক্ষা পেতে এখানে ব্রহ্মার বিশেষ পূজাও প্রচলিত হয়েছেন।

ত্রিপুরেশ্বরী ও রাজরাজেশ্বরী দেবী শক্তির এক অভিন্ন রূপ।

তন্ত্র ও পুরাণ মতে, মা রাজরাজেশ্বরী এবং মাতা ত্রিপুরেশ্বরী অভিন্ন। তাঁদের দু'জনের মধ্যে কোন অমিল নেই বলেই ভক্তবৃন্দরা মনে করেন। দশমহাবিদ্যার অন্যতম শ্রেষ্ঠ রূপ এই দেবী।

পুজো কমিটির এক সদস্য বলেন, “ ১২৬৫ বঙ্গাব্দ থেকে এই পুজো চলছে। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে। প্রায় ১০ দিন ধরে চলবে এই পুজো ও মেল। কমিটির তরফ থেকে প্রসাদেরই ব্যাবস্থা করা হয়। প্রায় ৪ হাজার জন ভক্ত প্রতিদিন এই  প্রসাদ গ্রহণ করেন।”


Share