Snake Bite

সাপের কামড়ে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু দশম শ্রেণির ছাত্রীর, চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগে আরামবাগ মেডিকেলে বিক্ষোভ

কর্তব্যরত চিকিৎসককে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান মৃত ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, রোগীকে বাঁচাতে সবরকম চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

হাসপাতালের বিক্ষোভে সামিল হন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আরামবাগ
  • শেষ আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬ ০৮:৫১

হুগলির আরামবাগে সাপের কামড়ে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক ছাত্রীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মৃত ছাত্রীর নাম তমসী পাল (১৬)। রবিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালের চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভে সামিল হন।

জানা গিয়েছে, তমসী আরামবাগের বাদলকোনা এলাকার বাসিন্দা। সে দশম শ্রেণির ছাত্রী। শনিবার রাতে তাকে সাপে কামড়ায়। এরপর পরিবারের লোকজন দ্রুত তাকে আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি করার পরও দীর্ঘ সময় চিকিৎসা শুরু করা হয়নি। ক্রমেই ছাত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। চিকিৎসক ও নার্সদের বারবার জানানো সত্ত্বেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এমনকি তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। পরে তমসীকে ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে মৃত ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা কর্তব্যরত চিকিৎসককে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। ক্রমেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আরামবাগ থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা হাসপাতালে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ঘটনা প্রসঙ্গে হাসপাতালের চিকিৎসক সোহমদেব বক্সী জানান, সাপে কামড়ানোর পর রোগীকে ভর্তি করা হয়েছিল। ইমার্জেন্সি থেকে ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়ার সময় তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে তাকে বাঁচানোর। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁরা ব্যর্থ হন। এই ঘটনায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

অন্য দিকে, মৃত ছাত্রীর দাদা অরিজিৎ পালের দাবি, হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে প্রথমে জানানো হয়েছিল যে বিষক্রিয়ার কোনও লক্ষণ নেই। কিন্তু পরবর্তীতে তমসীর মৃত্যু হয়। তাঁর অভিযোগ, শুরু থেকেই সঠিক ও দ্রুত চিকিৎসা হলে হয়তো এই পরিণতি এড়ানো যেত।


Share