Annapurna Yojona

অন্নপূর্ণার টাকা না পেয়ে জেলায় জেলায় ক্ষোভ-বিক্ষোভ, বাতিল আবেদনের কারণ খতিয়ে দেখতে বাড়ি বাড়ি সমীক্ষার ঘোষণা মন্ত্রী মালতি রাভা রায়ের

এই পরিস্থিতির মধ্যেই মেখলিগঞ্জের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী মালতি রাভা রায় জানিয়েছেন, যাঁদের অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন বাতিল হয়েছে, তাঁদের প্রত্যেকের বাড়িতে গিয়ে সমীক্ষা করা হবে। কেন তাঁরা তিন হাজার টাকার অনুদান পাননি, তা খতিয়ে দেখা হবে।

মালতি রাভা রায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬ ০৯:৩৫

অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা নিয়ে জেলায় জেলায় বাড়ছে ক্ষোভ। অনেকেই টাকা পেলেও, ফর্ম পূরণ করে জমা দেওয়ার পরও বহু মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এখনও অনুদানের অর্থ পৌঁছোয়নি। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ দেখা যাচ্ছে। কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ পুরসভায় ক্ষুব্ধ মহিলারা পুরপ্রধানকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়েও প্রতিবাদ জানান। এই পরিস্থিতির মধ্যেই মেখলিগঞ্জের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী মালতি রাভা রায় জানিয়েছেন, যাঁদের অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন বাতিল হয়েছে, তাঁদের প্রত্যেকের বাড়িতে গিয়ে সমীক্ষা করা হবে। কেন তাঁরা তিন হাজার টাকার অনুদান পাননি, তা খতিয়ে দেখা হবে। প্রকৃত উপভোক্তারা যাতে কোনওভাবেই বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

বিধানসভা নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ক্ষমতায় এসে তৃণমূল সরকারের লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের পরিবর্তে অন্নপূর্ণা যোজনা চালু করেছে বিজেপি সরকার। গত ১ জুলাই রাজ্যের এক কোটিরও বেশি উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে তিন হাজার টাকা করে সরাসরি পাঠানো হয়েছে। সেদিনই নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে প্রকল্পটি নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাজ্যের নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মালতি জানান, স্থায়ী বা নিয়মিত সরকারি চাকরিজীবী মহিলারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করেন, যাঁদের সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি সঠিক রয়েছে এবং আবেদন যাচাইয়ের সময় কোনও অসঙ্গতি ধরা পড়েনি, তাঁদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও কারণ নেই। যোগ্য আবেদনকারীদের অ্যাকাউন্টে নিয়মিতভাবে অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থ পৌঁছে যাবে। মন্ত্রী আরও বলেন, “এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল মহিলাদের নীরব পরিশ্রম ও অবদানকে যথাযথ সম্মান জানানো।”

এ দিকে বহু মহিলার অভিযোগ, তাঁরা প্রকল্পের সব যোগ্যতা পূরণ করেও অন্নপূর্ণা প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। কারও দাবি, ১২-১৩ পাতার আবেদনপত্র পূরণ করেছেন, আবার কেউ অনলাইনে সমস্ত প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিয়েছেন। তবুও অজানা কারণে তাঁদের আবেদন বাতিল হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ জুন প্রথম পর্যায়ে ২৮ লক্ষ ২৫ হাজার ৭৬৯ জন উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা প্রকল্পের অর্থ পৌঁছেছিল। পরে ১ জুলাই দ্বিতীয় কিস্তিতে প্রায় এক কোটি ৩০ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়েছে। তবে আবেদনপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রায় ২৬ লক্ষ আবেদনকে অযোগ্য বলে চিহ্নিত করেছে রাজ্য সরকার।

বর্তমানে অন্নপূর্ণার অর্থ না-পাওয়া নিয়ে যে ক্ষোভ-বিক্ষোভ চলছে, রবিবার সে নিয়ে মন্ত্রী মালতি জানিয়েছেন, কী কারণে আবেদন করার পরেও বাতিল হয়ে গেল বা অযোগ্য বলে ঘোষণা হল, তা নিয়ে খোঁজখবর হবে। তিনি বলেন, ‘‘এত বড় একটা কাজ। আমরা অনেক অল্প সময়ে এত মানুষকে পরিষেবা দিয়েছি। তার পরেও এসিডিও, বিডিও, জিপি-তে এগুলো তদন্ত করতে বলেছি, কী কারণে আবেদন ‘রিজেক্ট’  হল, কেন ‘রিজেক্ট’ হল সেটা দেখা হবে। এ নিয়ে মুখ্যসচিবের সঙ্গে আমাদের একটি বৈঠক হয়েছে।’’ আর বিক্ষোভ প্রসঙ্গে মন্ত্রীর মন্তব্য, ‘‘কারা কারা খুব বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, সেটাও দেখতে হবে। কিন্তু যাঁরা প্রকৃত যোগ্য, তাঁরাই এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন।’’

উল্লেখ্য, শনিবার বাঁকুড়ার শালতোড়ার বিজেপি বিধায়ক চন্দনা বাউড়ি অভিযোগ করেন, তাঁর বিধানসভা এলাকায় রাজনৈতিক পক্ষপাতের ভিত্তিতে তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ পরিবারের মহিলা সদস্যদেরই বেছে বেছে 'অন্নপূর্ণা' প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, এই অনিয়মের নেপথ্যে বিডিও অফিসের কিছু ডেটা এন্ট্রি অপারেটর রয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের দ্বারস্থ হবেন বলেও জানিয়েছেন।


Share