Beldanga Incident

গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছিলেন, খুনের কোনও প্রমাণ মেলেনি, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দিয়ে জানাল ঝাড়খণ্ড সরকার

আলাউদ্দিনের মৃত্যু নিয়ে গত শুক্রবার থেকে টানা দু’দিন অশান্ত হয়ে উঠেছিল বেলডাঙা-সহ মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ণ অংশ। ভাঙচুর, পুলিশ এবং সাংবাদিকদের উপর হামলা হয়েছে। তার প্রেক্ষিতে গ্রেফতার হন ৩৬ জন।

বেলডাঙার মৃত যুবকের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দিল ঝাড়খণ্ড পুলিশ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:০৮

গণপিটুনিতে মৃত্যু হয়নি মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার যুবক আলাউদ্দিন শেখের। তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এক সপ্তাহ পরে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দিল ঝাড়খণ্ড পুলিশ।

আলাউদ্দিনের ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলা হয়েছে, জীবিত অবস্থায় গলায় ফাঁস লাগানোর কারণে মৃত্যু হয়েছে আলাউদ্দিন শেখের। তাঁর শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ঝাড়খন্ডের পালামু জেলা পুলিশ এ-ও জানিয়েছে, যে ঘর থেকে তার দেহ উদ্ধার করা হয়েছে, তা ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। তাকে মারধর করে হয়েছে বলে এমন কোনও প্রমাণ ময়নাতদন্তের উঠে আসেনি।

ঝাড়খণ্ডের পলমু জেলার বিশ্রামপুর থানা এলাকায় একটি ঘর ভাড়া করে থাকতেন বেলডাঙার আলাউদ্দিন। পুরনো বাসনের বদলে নতুন বাসন ফেরি করতেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার সেই ঘর থেকেই তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এলাকায় রটে যায় ভিন্‌রাজ্যে বাঙালি শ্রমিকের উপর হামলা চালানো হয়েছে। তাঁকে পিটিয়ে মেরে পরে দেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করে পরিবার। ওই খবর আলাউদ্দিনের গ্রামে পৌঁছোতেই শুরু হয় শোরগোল। গত শুক্রবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল বেলডাঙা। দফায় দফায় পথ অবরোধ, বিক্ষোভ সামলাতে হিমশিম খেতে হয় প্রশাসনকে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

আলাউদ্দিনের মৃত্যু নিয়ে গত শুক্রবার থেকে টানা দু’দিন অশান্ত হয়ে উঠেছিল বেলডাঙা-সহ মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ণ অংশ। ভাঙচুর, পুলিশ এবং সাংবাদিকদের উপর হামলা হয়েছে। তার প্রেক্ষিতে গ্রেফতার হন ৩৬ জন। সেই মামলা কলকাতা হাই কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। হাই কোর্ট জেলা পুলিশের সুপার এবং জেলাশাসককে কড়া নির্দেশ দিয়েছে। এ ছাড়াও, ঘটনার তদন্ত জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএকে দিয়ে করানো যাবে কি না তা কেন্দ্রের ওপরেই ছেড়ে দিয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্য নিতেও বলা হয়েছে।


Share