Special Intensive Revision

ফরাক্কার তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এফআইআর, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে

বিজেপি নেতা বলেন, “একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে স্বশাসিত সংস্থার কাজে বাধা দেওয়া এবং সরকারি অফিসে ঢুকে ভাঙচুর বা খুনের হুমকি দেওয়া কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে ওঁর বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”

বিধায়ক মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ ০৭:১৪

ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এফআইআর)-এর শুনানির সময় ফরাক্কার বিডিও অফিসে তান্ডব এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। বিজেপির অভিযোগের ভিত্তিতে সেই এফআইআর হয়েছে বলে জানা গিয়েছে ।

১৪ জানুয়ারি ফরাক্কার বিডিও অফিসে এসআইআরের শুনানি চলাকালীন দলবল নিয়ে ঢুকে পড়ে তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলাম। ভিতরে ঢুকে চলে ভাঙচুর। কয়েক জনকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে পরে ইআরও জুনাইদ আহমেদ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনায় বেশ কয়েক জনকে গ্রেফতারও করা হয়।

তবে এফআইআরে তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলামের নাম না থাকায় প্রশ্ন ওঠে। এর পরেই কড়া পদক্ষেপ করে নির্বাচন কমিশন। তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে নির্দেশ দেয় কমিশন। কিন্তু সেই নির্দেশ কার্যকর না হওয়ায় শেষমেশ বিজেপি গিয়ে থানায় অভিযোগ জানিয়ে এসেছে। বিজেপির অভিযোগ, জনপ্রতিনিধি হয়ে মনিরুল কেবল সরকারি কাজে বাধাদানই করেননি, তিনি গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত ও ব্যাহত করার চেষ্টা করেছেন।

অন্য দিকে, শুক্রবার এসআইআরের কাজের দায়িত্বে থাকা ইআরও-কে পাঠানো চিঠিতে মনিরুল জানান, নির্বাচন কমিশন, তাদের আধিকারিক এবং ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি তিনি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল। তিনি সর্বদা সংবিধান মেনে চলেন এবং আইনের শাসনে বিশ্বাস করেন। তবে কোথাও হয়তো শব্দচয়ন ভুল হয়েছিল। গত ১৪ জানুয়ারি ফরাক্কার বিডিও অফিসের সামনে যা বলেছিলেন, তা নির্বাচন কমিশনের মর্যাদা নষ্টের উদ্দেশ্যে বলেননি। ভোট প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করাও তাঁর উদ্দেশ্য নয়।

কেন কমিশনের নির্দেশ সত্ত্বেও প্রশাসন মনিরুলের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে অভিযোগ দায়ের করল না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। তাঁর কটাক্ষ, ‘‘প্রশাসনিক নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কেন পুলিশ ব্যবস্থা নিল না, সেটাই তো বড় প্রশ্ন। একটা রাজনৈতিক দলকে কেন এফআইআর করতে হচ্ছে? এটাই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার বর্তমান অবস্থার উদ্বেগের ছবি।”

মনিরুলের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের নিয়ে বিজেপির সাংগঠনিক জেলা চেয়ারম্যান সুবলচন্দ্র ঘোষের দাবি, “একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে স্বশাসিত সংস্থার কাজে বাধা দেওয়া এবং সরকারি অফিসে ঢুকে ভাঙচুর বা খুনের হুমকি দেওয়া কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে ওঁর বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”


Share