Attempted to Murder

শ্রীরামপুরের মাঠে বচসা গড়াল হিংসায়, গ‍্যালারিতে তরুণীর পেটে কাঁচি ঢুকিয়ে দিল স্বামী, গ্রেফতার অভিযুক্ত

হুগলির শ্রীরামপুরের আর এম এস মাঠের গ্যালারিতে এক তরুণীর পেটে কাঁচি ঢুকিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে শ্রীরামপুর ওয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আক্রান্ত তরুণীকে নিয়ে আসা হয় হাসপাতালে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, শ্রীরামপুর
  • শেষ আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:৪৮

চলছিল গল্প। তা থেকে বচসা। আর তার পরেই বচসা গড়াল হিংসায়। বৃহস্পতিবার দুপুরে হুগলির শ্রীরামপুরের আর এম এস মাঠের গ‍্যালারিতে ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযুক্ত যুবককে পাকড়াও করে স্থানীয়েরা মারধর করে। তার পরে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ঘটনায় পরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের খবর, আর এম এস মাঠের গ‍্যালারিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে এমন কয়েক জন জমায়েত করে। সেখানে এক যুবক এবং তরুণী বসে গল্প করছিলেন। আচমকা এক তরুণী চিৎকার করতে শুরু করেন। স্থানীয় মানুষ ও ব্যবসায়ীরা সেখানে ছুটে যান। গিয়ে দেখেন, রক্তারক্তি কান্ড ঘটে গিয়েছে। ওই তরুণীর পেটে কাঁচি ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। যন্ত্রণায় ছটফট করছেন। উদ্ধার করে তরুণীকে তড়িঘড়ি শ্রীরামপুর ওয়াল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

স্থায়ীয়দের এ-ও বক্তব্য, যে যুবক এই কান্ড ঘটিয়েছে তাকে বাধা দিতে গেলে আরও একজন আক্রান্ত হন। স্থানীয়েরাই অভিযুক্তকে ধরে বেধড়ক মারধর করে। তাঁরাই শ্রীরামপুর থানায় খবর দেয়। শ্রীরামপুর থানার পুলিশ গিয়ে অভিযুক্ত যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আক্রান্ত তরুণী ধৃতের স্বামী বলে জানা গিয়েছে। তাঁরা রিষড়ার চম্পা রোড এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে।

শ্রীরামপুর স্টেশন সংলগ্ন আর এম এস মাঠ যা গান্ধী ময়দান নামে পরিচিত। সেই মাঠের দুপাশে গ্যালারি করা আছে। সেই গ্যালারিতে যুবক-তরুণী থেকে স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা এসে বসে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেখানে প্রেম-তর্ক-ঝগড়া-ভালবাসা-সহ নেশাদ্রব‍্য সেবন— সবটাই হয়। প্রতিদিনের এই ঘটনায় তাঁরা অতিষ্ঠ বলেও দাবি করেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা নিত্য। এ বার তা বন্ধ হোক বলে দাবি করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সমীর সাহা বলেন, “স্থানীয় পুরসভাকে গত দশ বছর ধরে এলাকার মানুষ এ বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছে। মাঠের পাশে তিন ধাপের গ্যালারি খেলা দেখার জন্য করা হয়েছিল। কিন্তু মাঠে তো খেলা হয় না। তাই এই গ্যালারি ভেঙ্গে দেওয়ার দাবি করা হয়েছিল। শুধু একটা ধাপে যদি চেয়ার বসানো থাকতো তা হলে এই ধরনের ঘটনাগুলো ঘটতো না।” 

তিনি আরও বলেন, “এখানে রীতিমতো নেশার ঠেক চলে। বিভিন্ন অসামাজিক কাজ চলে। এটা অত্যন্ত দৃষ্টিকটু। বয়স্ক মানুষেরা জন্য সেকারণে আসতে পারেন না। পুলিশ-পুরসভা বিষয়টা দেখুক, এটাই আমরা চাই।”


Share