Kajal Sheikh On Mamata Banerjee

মমতাই আমার নেত্রী’, বিজয়ার মিষ্টি খেয়েই কি তৃণমূলে ঘরওয়াপসির ইঙ্গিত কাজল শেখের?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজের নেত্রী বলে ফের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করলেন কাজল শেখ, শোভনদেবের সঙ্গে মিষ্টিমুখ ঘিরে তৃণমূলে ঘরওয়াপসির জল্পনা তুঙ্গে।

(বাঁ দিক থেকে ) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কাজল শেখ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:৩৪

বিধানসভার লবিতে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় এবং মিষ্টিমুখ। তার পরেই নিরাপত্তারক্ষী প্রত্যাহার। পরপর দুই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন জল্পনা। বীরভূমের তৃণমূল বিধায়ক কাজল শেখের দাবি, সৌজন্য বিনিময় কোনও অপরাধ নয়। একইসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই নিজের নেত্রী বলে উল্লেখ করে রাজনৈতিক মহলে ঘরওয়াপসির জল্পনা আরও উস্কে দিলেন তিনি। তবে কি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ছেড়ে ফের কালীঘাটের ঘনিষ্ঠ হতে চাইছেন কাজল?

বৃহস্পতিবার নিরাপত্তারক্ষী সরিয়ে নেওয়া নিয়ে মুখ খোলেন কাজল। তাঁর কথায়, “বিজয়ার মিষ্টি খেয়েছি তাই দু’জন সিকিউরিটিকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরকম ভাবে নিরাপত্তা সরিয়ে নিলে আরও মিষ্টি খাব। বিজয়ার মিষ্টি খাওয়া সৌজন্যবোধ, কোনও অপরাধ নয়।” পাশাপাশি, নিজের শিবিরের চিফ হুইপ আখরুজ্জামানের কাছে নিরাপত্তা পুনর্বহালের দাবিও জানিয়েছেন তিনি। শোভনদেবের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কাজলের স্পষ্ট জবাব, “মমতাই আমার নেত্রী। আমি সর্বদা ওঁর দিকেই আছি।”

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ঋতব্রত শিবিরে নাম লিখিয়েছিলেন হাঁসনের বিধায়ক কাজল। ২৮ অক্টোবর বিধানসভায় মমতাপন্থী নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। যদিও তৃণমূলে ফেরার বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা করেননি কাজল।

বীরভূমে অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে কাজলের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব রয়েছে। গরুপাচার মামলায় অনুব্রত গ্রেফতার হওয়ার পর জেলায় কাজলের প্রভাব বাড়ে। তৃণমূল আমলের শেষ পঞ্চায়েত নির্বাচনে জেলা পরিষদের আসনে জিতে সভাধিপতি হন তিনি। সেই সময় তাঁর নিরাপত্তায় দু’জন দেহরক্ষী, পাইলট ও এসকর্ট গাড়ি মোতায়েন ছিল। পরে ওয়াই ক্যাটেগরির নিরাপত্তায় ১৫ জন পুলিশকর্মী নিযুক্ত হন।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে পালাবদলের পর কাজলের ওয়াই ক্যাটেগরির নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে চার জন নিরাপত্তারক্ষী দেওয়া হয়। ৪ অগস্ট জেলা পরিষদে তাঁর বিরুদ্ধে ১৯ জন সদস্য অনাস্থা আনেন। ২০ অগস্ট সভাধিপতি পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর তাঁর নিরাপত্তাও সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে ঋতব্রত শিবিরে যোগ দেওয়ার পর ফের দু’জন দেহরক্ষী পান তিনি। এবার শোভনদেবের সঙ্গে মিষ্টিমুখের পর সেই নিরাপত্তা প্রত্যাহার ঘিরেই নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা। 


Share