Calcutta High Court

কলকাতা পুরসভার ডিলিমিটেশন মামলায় হস্তক্ষেপ নয় হাই কোর্টের, আপাতত ভোটপ্রক্রিয়ায় বাধা নেই

ফলে বর্ধিত আসনের ভিত্তিতে কলকাতা পুরসভার ভোটপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আপাতত কোনও আইনি বাধা তৈরি হল না। তবে আসন পুনর্বিন্যাসকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দায়ের হওয়া মামলার নিষ্পত্তি এখনও বাকি।

কলকাতা হাই কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:২৩

কলকাতা পুরসভার আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন মামলায় আপাতত কোনও হস্তক্ষেপ করল না কলকাতা হাই কোর্ট। অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারির আবেদন খারিজ করে দিলেন বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ। ফলে বর্ধিত আসনের ভিত্তিতে কলকাতা পুরসভার ভোটপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আপাতত কোনও আইনি বাধা তৈরি হল না। তবে আসন পুনর্বিন্যাসকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দায়ের হওয়া মামলার নিষ্পত্তি এখনও বাকি।

মামলার পরবর্তী শুনানির আগে কলকাতা পুরসভা, রাজ্য নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্য সরকারকে চার সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এর পরবর্তী দু’সপ্তাহের মধ্যে পাল্টা হলফনামা জমা দিতে পারবেন মামলাকারী। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে ছ’সপ্তাহ পর ফের এই মামলার শুনানি হবে। আপাতত অন্তর্বর্তী নির্দেশ না মেলায় ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া নিয়ে আইনি বিতর্ক জারি থাকলেও, পরবর্তী শুনানির দিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।

দীপু দাসের দায়ের করা এই মামলায় আসন পুনর্বিন্যাসের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও বক্তব্য পেশ করা হয়। এ প্রসঙ্গে বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় জানান, বুধবার বিকেল তিনটের সময় তাঁরা মামলার কপি পেয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার নিজেদের বক্তব্য জানাতে আদালতে উপস্থিত হন তাঁরা। তবে এই পর্যায়ে নতুন করে সওয়াল করে অন্তর্বর্তী নির্দেশ পাওয়ার সুযোগ নেই বলে আদালতের তরফে জানানো হয়। তাঁদের বক্তব্য আদালত রেকর্ড করেছে বলেও জানান তিনি।

বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, কলকাতা পুরসভার আসন পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়া অবৈজ্ঞানিক। তাঁর দাবি, নাগরিক পরিষেবার বিষয়টি বিবেচনায় রাখার কথা বলা হলেও, আসন পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে জনসংখ্যাকেই প্রধান ভিত্তি করা উচিত ছিল। কিন্তু জনসংখ্যার পরিবর্তে ভোটারের সংখ্যার নিরিখে আসন পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে বলে অভিযোগ। পাশাপাশি, এই প্রক্রিয়ায় জনশুনানি করা হয়নি বলেও দাবি করেছেন তিনি।

আদালত আপাতত অন্তর্বর্তী নির্দেশ না দেওয়ায় ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ জারি হল না। তবে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়ায় আইনি লড়াইও শেষ হচ্ছে না। পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা দলীয় স্তরে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। আগামী ছ’সপ্তাহ পর মামলার শুনানিতে আদালত কী অবস্থান নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।


Share