Murder

জিমের প্রশিক্ষকের সঙ্গে প্রেম, স্বামীকে সরাতে ছক স্ত্রীর! বাড়িতে ঢুকে পেটে ছুরির কোপ প্রেমিকের, দিল্লিতে গ্রেফতার দু’জন

রক্তাক্ত অবস্থায় চিৎকার শুরু করতেই পালিয়ে যান অভিযুক্ত। যদিও প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন ওই ব্যক্তি। দিল্লির বসুন্ধরা এলাকার এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই স্ত্রী প্রিয়া শর্মা এবং তাঁর প্রেমিক তথা জিম প্রশিক্ষক প্রতাপ সিংহকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ০৪:০১

জিমের প্রশিক্ষকের সঙ্গে পরিচয়, সেখান থেকে ঘনিষ্ঠতা এবং পরে প্রেমের সম্পর্ক। কিন্তু সেই সম্পর্কে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিলেন স্বামী। অভিযোগ, তাঁকে পথ থেকে সরিয়ে দিতেই প্রেমিকের সঙ্গে মিলে স্বামীকে খুনের পরিকল্পনা করেন স্ত্রী। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাড়িতে ঢুকে স্বামীর পেটে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন প্রেমিক। রক্তাক্ত অবস্থায় চিৎকার শুরু করতেই পালিয়ে যান অভিযুক্ত। যদিও প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন ওই ব্যক্তি। দিল্লির বসুন্ধরা এলাকার এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই স্ত্রী প্রিয়া শর্মা এবং তাঁর প্রেমিক তথা জিম প্রশিক্ষক প্রতাপ সিংহকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে খবর, বসুন্ধরা সেক্টর ১-এ স্ত্রী প্রিয়ার সঙ্গে থাকতেন শশাঙ্ক কাঁঠারিয়া। দু’জনেই চাকরি করেন। চার বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়। তবে এটি ছিল প্রিয়ার দ্বিতীয় বিয়ে। উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসির বাসিন্দা শশাঙ্ক কর্মসূত্রে দিল্লিতে থাকতেন। তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, সকালে দৌড়তে বেরিয়ে জিম প্রশিক্ষক প্রতাপের সঙ্গে পরিচয় হয় প্রিয়ার। পরে তাঁর জিমে ভর্তি হন তিনি। গত সাত-আট মাস ধরে সেখানে যাতায়াতের সূত্রেই দু’জনের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। একসময় তা প্রেমের সম্পর্কে পরিণত হয়।

পুলিশের দাবি, প্রিয়া ও প্রতাপের মধ্যে নিয়মিত হোয়াট্‌সঅ্যাপে কথাবার্তা চলত। শরীর খারাপের অজুহাতে মাঝেমধ্যে অফিসে না গিয়ে বাড়িতে থাকতেন প্রিয়া। সেই সুযোগে স্বামী কাজে বেরিয়ে যাওয়ার পর প্রতাপকে বাড়িতে ডেকে আনতেন তিনি। স্ত্রীর বারবার অফিস কামাই করা নিয়ে সন্দেহ হয় শশাঙ্কের। এরপর নজরদারি শুরু করতেই প্রিয়ার বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের কথা জানতে পারেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তিও হয়। তদন্তকারীদের দাবি, দিওয়ালির পর স্ত্রীকে নিয়ে বসুন্ধরা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন শশাঙ্ক। কিন্তু তাতে রাজি ছিলেন না প্রিয়া।

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, গত ২৫ অক্টোবর প্রিয়া ও প্রতাপের দেখা হয়। সেই সময়েই শশাঙ্ককে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন বলে অভিযোগ। পরদিন, ২৬ অক্টোবর সকালে প্রিয়া তাড়াতাড়ি অফিসে বেরিয়ে যান। বাড়ির দরজা খোলা রেখে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর সেখানে পৌঁছোন প্রতাপ। অভিযোগ, বাড়িতে ঢুকেই শশাঙ্কের উপর ছুরি নিয়ে হামলা চালান তিনি। শশাঙ্কের পেটে ছুরি দিয়ে আঘাত করার পর তিনি চিৎকার শুরু করলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান অভিযুক্ত।

এরপর স্থানীয় বাসিন্দারা রক্তাক্ত শশাঙ্ককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আপাতত বিপন্মুক্ত শশাঙ্ক। এদিকে, শশাঙ্কের ভাইয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। সেই সূত্রেই প্রিয়া ও প্রতাপকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে ঠিক কী পরিকল্পনা ছিল এবং হামলায় দু’জনের ভূমিকা কতটা, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।


Share