Ex BJP Leader Assaulted

দুর্গাপুরের বিজেপির বহিষ্কৃত নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ দলের অন‍্য গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে, লক্ষ্মণ ঘোড়ুইয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলায় ঘটনা বলে দাবি

বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুইয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলার জেরেই এই হামলা বলে দাবি ধ্রুবজ্যোতির। পাল্টা বিধায়কের মন্তব্য, ‘অ্যাকশন করলে রিঅ্যাকশন হবেই।’

দুর্গাপুরে আক্রান্ত প্রাক্তন বিজেপি নেতা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর
  • শেষ আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ০৪:৫২

দুর্গাপুরে বিজেপির বহিষ্কৃত নেতা তথা প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতির বাড়ি ও দোকানের হামলা করার অভিযোগ উঠল বিজেপিরই একাংশের বিরুদ্ধে। প্রতিবাদ করলে বহিষ্কৃত বিজেপি নেতার অনুগামীরা মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ। আক্রান্তের প্রাক্তন বিজেপি নেতার দাবি, এলাকার বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুইয়ের দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। তাই তাঁর অনুগামীদের রোষের শিকার হয়েছেন তিনি। পাল্টা বিধায়কের দাবি, ‘সব অ্যাকশনেরই রিঅ্যাকশন থাকে।’

অভিযোগ, বুধবার সন্ধ্যায় বিজেপি নেতার ওষুধের দোকানে কয়েক জন দলীয় কর্মী আসেন। দোকানে জাল ওষুধ বিক্রি করার অভিযোগ তোলেন। তার পরেই ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ। দোকানে কর্মীদের মারধর করে বাইরে বের করে দেয়। তার পর দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেয়। দুর্গাপুরের প্রাক্তন বিজেপির মন্ডল সভাপতি ধ্রুবজ্যোতি মুখোপাধ্যায় বলেন, “সন্ধেবেলায় আমার চালু দোকানে ২০-৩০টা বহিরাগত গুন্ডা এসে বিজেপি সমর্থকের নাম দিয়ে আমার স্টাফদের দোকান থেকে মেরে বার করে দিয়ে চাবি লাগিয়ে দিয়েছে। আমার ঘরে বহিরাগত গুন্ডা নিয়ে লক্ষ্মণ ঘোড়ুই আক্রমণ করার পরিকল্পনা করেছে।”

বেঙ্গল কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের দুর্গাপুর জোনের সভাপতি তরুণ রায় জানান, “এসে বলছে জাল ওষুধ বিক্রি হয়। এটা পুরোপুরি অন্যায়। দোকানের রেপুটেশন নষ্ট করার জন্য এসব করছে।” 

বিজেপির প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতি ধ্রুবজ্যোতি মুখোপাধ্যায়ের দাবি, সকালে সমাজমাধ‍্যমে হুমকি-শাসানি দেওয়া হয়। তার পরেই সন্ধেয় বাড়ি ও দোকানে হামলা চালানো হয়। এই হামলার ঘটনায় দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুইয়ের অনুগামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন তিনি। ধ্রুবজ্যোতি বলেন, “ বিধায়কের দুর্নীতির বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ সহ অভিযোগ করেছিলাম। এই অপরাধে যদি আমাকে মেরে দেয়, মরে যাব। এই অপরাধে লক্ষ্মণ ঘোড়ুইয়ের পাঠানো গুন্ডারা যদি আমার বউ-বাচ্চা, কাকা কাকিমা, অসুস্থ ভাই, অসুস্থ মাকে মেরে দেয়, মরে যাব।”

এই বিবাদের সূত্রপাত কয়েকদিন আগে। দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুইয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে চিঠি দেন বিজেপির প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতি ধ্রবজ‍্যোতি মুখোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ ছিল, ২০২১ সালে বিজেপির টিকিটে জিতে প্রথমবার বিধায়ক হওয়ার পর থেকেই লাফিয়ে-লাফিয়ে সম্পত্তির পরিমাণ বেড়েছে। রাতারাতি লাখপতি থেকে হয়ে কোটিপতি গিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক। শুধু তাই নয়, ছেলে ও মেয়েকে রাতারাতি কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থায় মোটা টাকা বেতনে চাকরিও পাইয়ে দিয়েছেন বলে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁর জামাইকেও ওই সংস্থায় চাকরি পাইয়ে দিয়েছেন। বিধায়কের ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে স্ত্রীকে বিপুল পরিমাণ জমির মালিকানা পাইয়ে দিয়েছেন। এমন চিঠির পরেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিধানসভার স্পিকারের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন‍্য নির্দেশ দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, এই অভিযোগ জানানোর পরেই বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুইয়ের অনুগামীদের রোষের মুখে পড়েন।

দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই বলেন, “দীর্ঘ দু’বছর ধরে আমার নামে মিথ্যাচার করে আসছে। অ্যাকশন করলে রিঅ্যাকশন হবেই। সেটাই হচ্ছে এখন। বিধায়ককে আক্রমণ করলে বসে থাকবে ছেলেরা?” তাঁর আরও দাবি, “কিছুই তো শুরু করিনি এখনও। এ বার শুরু করব।”

দুর্গাপুর পশ্চিম মণ্ডল (২)-র বিজেপি সভাপতি নীলমাধব চক্রবর্তী বলেন, “ধ্রুবজ্যোতি আমার বিধায়কের পরিবারের নামে আঙুল তুলেছে। ওই আঙুল আমরা ভেঙে দেব।” দুর্গাপুর পশ্চিম মণ্ডল (১)-র বিজেপি মহিলা মোর্চার সভাপতি লক্ষ্মী মির্ধা আবার বলছেন, “পুরো মহিলা মোর্চার টিম নিয়ে গিয়ে গোপালমাঠ এলাকা ছাড়া করে দেব আমাদের।”


Share