PNB Financial Irregularities

গ্রাহকের অজান্তেই অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও ৩৫ কোটি! পিএনবিতে অনিয়মের অভিযোগ, সাসপেন্ড ম্যানেজার-সহ ৫

গ্রেটার নয়ডায় পিএনবির শাখায় গ্রাহকদের অনুমতি ছাড়াই ৩৫ কোটি টাকা সরানোর অভিযোগ, সাসপেন্ড শাখা ব্যবস্থাপক-সহ পাঁচ কর্মী, তদন্তে পুলিশ।

পিএনবিতে দুর্নীতির অভিযোগ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ০৩:১৫

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কে (পিএনবি) ফের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ। উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডার এচ্ছর এলাকার একটি শাখায় গ্রাহকদের সেভিংস অ্যাকাউন্ট ও ফিক্সড ডিপোজিট থেকে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা গায়েব হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গ্রাহকদের দাবি, তাঁদের অনুমতি ছাড়াই এই বিপুল পরিমাণ টাকা অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। ঘটনায় ইতিমধ্যেই শাখা ব্যবস্থাপক-সহ পাঁচ কর্মীকে সাসপেন্ড করেছে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশও।

অভিযোগ, নিজেদের অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স পরীক্ষা করতে গিয়ে বা টাকা তুলতে গিয়ে সঞ্চয়ের পরিমাণে বড়সড় গরমিল দেখতে পান গ্রাহকেরা। তাঁদের অনেকেরই দাবি, টাকা স্থানান্তরের জন্য তাঁরা কোনও অনুমতি দেননি, এমনকি কোনও নথিতেও স্বাক্ষর করেননি। অথচ লেনদেনের বিষয়ে কোনও সতর্কবার্তা বা বিজ্ঞপ্তিও পাননি তাঁরা।

সংবাদসংস্থা পিটিআইকে হানিফ খান নামে এক গ্রাহক জানিয়েছেন, তাঁর সেভিংস অ্যাকাউন্টে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা জমা ছিল। ব্যালেন্স পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখেন, সেই টাকা উধাও। অন্য দিকে, বিজেন্দ্র সিংহের দাবি, তাঁর অ্যাকাউন্টে আগে ৮৭-৮৮ লক্ষ টাকা থাকলেও বর্তমানে মাত্র ১ লক্ষ টাকা রয়েছে। তবে তিনি ব্যাঙ্কের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন বলেও জানিয়েছেন।

‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেওয়ার বিমানবন্দর প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ বাবদ এক চা-শিঙারা বিক্রেতার অ্যাকাউন্টে ১.২৯ কোটি টাকা জমা পড়েছিল। তাঁর অভিযোগ, সেই অ্যাকাউন্ট থেকেও ১.১৮ কোটি টাকা গায়েব। ৬০ বছর বয়সি সন্তোষের দাবি, ওই অর্থই ছিল তাঁর জীবনের শেষ সঞ্চয়।

বুধবার টাকা ফেরত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবিতে ব্যাঙ্কের শাখায় ভিড় করেন গ্রাহকেরা। বিক্ষোভ দেখান কৃষক ইউনিয়নের সদস্যেরাও। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

নয়ডা পুলিশ কমিশনারেটের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ১৬ জন অভিযোগ দায়ের করেছেন। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গ্রেটার নয়ডার সহকারী পুলিশ কমিশনারকে (এসিপি)। পাশাপাশি, পিএনবির দুর্নীতি দমন বিভাগও পৃথক তদন্ত চালাচ্ছে।

উল্লেখ্য, এর আগেও একাধিক আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় পিএনবির নাম জড়িয়েছে। নীরব মোদী ও মেহুল চোক্সীর বিরুদ্ধে ১৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছিল। তবে গ্রেটার নয়ডার সাম্প্রতিক ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে।


Share