Kali Puja

কালীপুজোয় অবৈধ বাজি বিক্রি রুখতে কড়া প্রশাসন, ফানুস ওড়ানোতেও লাগবে লাইসেন্স!

বাজি তৈরি, বিক্রি থেকে শুরু করে পোড়ানো—একাধিক ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিয়ম ভাঙলে কড়া পদক্ষেপেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রশাসনিক কর্তারা।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:৩৯

মাস পড়লেই কালীপুজো। ইতিমধ্যেই পাড়ায় পাড়ায় শুরু হয়ে গিয়েছে মণ্ডপ তৈরির কাজ। অলিগলিতে টুকটাক বাজি বিক্রিও শুরু হয়েছে। উৎসবের মরশুমে অবৈধ বাজি বিক্রি, শব্দদূষণ ও দুর্ঘটনা রুখতে এ বার কড়া পদক্ষেপের পথে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার নবান্নে কালীপুজোর প্রস্তুতি বৈঠকে বসেন স্বরাষ্ট্রসচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ, কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দা এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা। বাজি তৈরি, বিক্রি থেকে শুরু করে পোড়ানো—একাধিক ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিয়ম ভাঙলে কড়া পদক্ষেপেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রশাসনিক কর্তারা।

কালীপুজোর প্রস্তুতি বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে অবৈধ বাজি বিক্রি বন্ধ করা, শব্দবাজির দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি। বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্রসচিব জানান, উৎসবের আনন্দ করতে গিয়ে যেন অন্য কারও ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে। সব দায়িত্ব পুলিশের উপর চাপিয়ে না দিয়ে নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হওয়ার বার্তা দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, নিজেরা সচেতন হলে অনেক দুর্ঘটনাই এড়ানো সম্ভব।

প্রতি বছরের মতো এ বারও বাজি বাজারগুলিতে নজরদারি চালাবে পুরসভা। অবৈধ বাজি চিহ্নিত করে সেগুলি বাজেয়াপ্ত করা হবে। পাশাপাশি, যে সব এলাকায় বাজি তৈরি হয়, সেখানেও নজরদারি বাড়ানো হবে। বৈধ লাইসেন্স ছাড়া বাজি তৈরি বা বিক্রি কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে। শব্দবাজির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ নজর রাখবে পুলিশ।

বাজি পোড়ানোর ক্ষেত্রেও একাধিক বিধিনিষেধের কথা জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের বাইরে বাজি পোড়ানো যাবে না। রাত ১০টার পর বাজি পোড়ানো নিষিদ্ধ থাকবে। হাসপাতালের ১০০ মিটারের মধ্যে শব্দবাজি ব্যবহার করা যাবে না। একই নিয়ম কার্যকর হবে নীরব এলাকা বা সাইলেন্স জোনগুলিতেও। শব্দদূষণ সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

এ বার ফানুস ওড়ানো নিয়েও কড়াকড়ির ইঙ্গিত দিয়েছে প্রশাসন। রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা জানান, ফানুসের কারণে একাধিক দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। তাই যথেচ্ছ ফানুস ওড়ানো বা বিক্রি করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে লাইসেন্সের প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে সেই লাইসেন্স কোথা থেকে এবং কী পদ্ধতিতে পাওয়া যাবে, তা এখনও স্পষ্ট করা হয়নি।

শব্দদূষন নিয়ে অভিযোগ জানাতে নবান্নের তরফে একটি কন্ট্রোলরুম খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেখানে অভিযোগ জমা পড়লে দ্রুত পদক্ষেপ করবে পুলিশ। আগামী দু’-তিন দিনের মধ্যে হেল্পলাইন নম্বর প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন ডিজি। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রেফতারও করা হতে পারে। সবশেষে স্বরাষ্ট্রসচিবের বার্তা, উৎসবের আনন্দ বজায় থাকুক, তবে তা যেন অন্যের বিপদ বা অসুবিধার কারণ না হয়ে ওঠে।


Share