Indranil Sen

আন্টি-বেবির যৌথ লড়াই ইন্দ্রনীল সেন! সিপিএমের আমল থেকে গায়কের উৎপত্তি, কটাক্ষ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, ইন্দ্রনীল সেন সিপিএমের কাছের লোক ছিলেন। তাঁকে সিপিএমের ‘ব্লু-আইড বয়’ ছিলেন বলেও দাবি করেন শুভেন্দু। এমনকী, প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মেয়ের সমাজসেবী সংগঠনের সঙ্গেও ছিলেন ইন্দ্রনীল সেন— মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন এমনটাই।

ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেফতারি নিয়ে হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:৪৬

দুর্গাপুজোর টিকিট জালিয়াতি মামলায় কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন তথ‍্য ও সংস্কৃতি দফতরের প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। তাঁর উৎপত্তি সিপিএমের আমল থেকে। তা স্মরণ করিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ধৃত ইন্দ্রনীল সেন এক সময় সিপিএমের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। পরে নিজেকে পাল্টেছেন। ‘জলের মতো আকার’ মতো নিজেকে বদলেছেন। এর পরেই তিনি নাম না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘আন্টি’ এবং সিপিএমের সম্পাদক এম এ বেবিকে ‘বেবি’ বলে কটাক্ষ করেন। ইন্দ্রনীল তাঁদেরই ‘যৌথ লড়াই’ বলে কটাক্ষ করেন।

কলকাতা পুলিশের হাতে টিকিট জালিয়াতি মামলায় ধৃত ইন্দ্রনীল সেনের সিপিএমের সময় থেকে তাঁর উদ্ভব হয়েছিল। নিজেকেও একদা কমিউনিজমের ধারক ও বাহক বলেও বরাই করতেন। তাঁর কথাবার্তা এবং বিভিন্ন ভাষণে যে কমিউনিজমের আদর্শবাদ ছিল তা-ও বুঝতে কারও বাকি নেই। তৃণমূলের আসেন। চন্দননগর বিধানসভা থেকে নির্বাচিত হয়েছে তথ‍্য ও সংস্কৃতি দফতরের প্রতিমন্ত্রী হন। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দফতরের মন্ত্রী ছিলেন। তৃণমূলের চাঁদ যখন মধ্য গগনে তখন সন্ধ্যায় তাঁর আড্ডাখানা ছিল নন্দন। অভিযোগ, তাঁর আমলে নন্দনে বিভিন্ন সম্প্রীতির বানী দ্বারা মুগ্ধ নাটক, কমিউনিস্টদের বিভিন্ন অনুষ্ঠান বেশি হয়েছে। সরাসরি টাকায় সরকারি সম্পত্তি ব‍্যবহার করে দিনের পর দিন সেখানে বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কমিউনিজমের প্রচার চালানো হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, ইন্দ্রনীল সেন সিপিএমের কাছের লোক ছিলেন। তাঁকে সিপিএমের ‘ব্লু-আইড বয়’ ছিলেন বলেও দাবি করেন শুভেন্দু। এমনকী, প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মেয়ের সমাজসেবী সংগঠনের সঙ্গেও ছিলেন ইন্দ্রনীল সেন— মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন এমনটাই। তিনি বলেন, “এঁরা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নিজেকে পাল্টেছেন। অনেকটা জলের মতো।”

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, মমতা আর ইন্দ্রনীল একে অপরের পরিপূরক ছিলেন বলেই তিনি জানতেন। তিনি মনে করেন, চুরির টাকা ইন্দ্রনীল সবটাই খেয়েছেন তা ভেবে নেওয়া একে বারেই ভুল হবে। তিনি বলেন, “ইন্দ্রনীল সেন আগে সিপিএমকে খাইয়ে তার পরে নিজে খেতেন। সিপিএমের সবচেয়ে কাছের লোক ছিলেন। সিপিএমের প্রচারক ছিলেন। নন্দীগ্রামের আন্দোলনের সময়ও ইন্দ্রনীল আর সুবোধ সরকার বিরুদ্ধে গান লিখেছিলেন। সবাই তা জানে। পরে মমতার ঘনিষ্ঠ হন। রাজ‍্যের মন্ত্রী হন।”

এর পরেই তিনি সিপিএম এবং তৃণমূলকে কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নাম না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘আন্টি’ এবং সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবিকে ‘বেবি’ বলে কটাক্ষ করেন। ইন্দ্রনীল সেন তাঁদের ‘যৌথ লড়াই’ বলে কটাক্ষ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “বেবি মানে লাল পার্টির বেবি। দু’জনে (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এম এ বেবি) এখন বন্ধু হয়েছে। খুব ভালোই সিপিএমের সাথে বন্ধুত্ব হয়েছে।”

ইন্দ্রনীল সেন প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন যা সুবিধা পেয়েছেন তা তৃণমূলের অনেক মন্ত্রীরাও পায়নি বলে মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “আমি অনেক রাজনৈতিক সভায় বলেছি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত‍্যক্ষ মদতে এ সব হয়েছে। উনি একা এ সব করেননি। খাইয়ে তার পরেই নিজে খেয়েছেন। একই গাড়িতে ঘুরতেন। এক সাথে ঘোরার কার ভাগ‍্য হয়েছিল। অন‍্য কোনও মন্ত্রী সেই ভাগ‍্য হয়নি। যাঁরা তৃণমূল তৈরি করেছে তাঁদেরও হয়নি। ইন্দ্রনীলের হয়েছিল। তিনি একসাথে ডুয়েট গাইতেন। শেষ গানটিও আমরা শুনেছিলাম, ‘আমার বিদায়ের সময় হল।’ ওটা ডুয়েট গেয়েছিলেন।”

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ইন্দ্রনীল সেন গায়কদের খাম থেকে টাকা বের নিতেন। স্ত্রী-র নামে ইভেন্ট ম‍্যানেজমেন্ট সংস্থা খুলেছিলেন। সেটাকে ব‍্যবহার করে তথ‍্য ও সংস্কৃতি দফতর থেকে কোটি কোটি টাকা নিয়েছেন। হুগলির সিঙ্গুরে খামারবাড়ি তৈরি করেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের তো দু’কামরার ফ্ল‍্যাট ছাড়া অন‍্য কিছু জোটেনি।”

বুধবার সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বের হতেই টেনেহিঁচড়ে ইন্দ্রনীলকে গাড়িতে তোলে পুলিশ। তাঁকে বউবাজার থানার মামলায় লালবাজারের গোয়েন্দারা গ্রেফতার করেছে। ‘মাস আর্ট’ সংস্থার নামে দুর্গাপুজোর টিকিট জালিয়াতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তাঁকে বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করানো হবে।

এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ওঁর বিরুদ্ধে তদন্ত অনেক দিন ধরেই চলছিল। একদিকে ইডি অপর দিকে কলকাতা পুলিশ তদন্ত করছে। কিছু তথ্যপ্রমাণ তাঁরা পেয়েছে বলেই গ্রেফতার করেছে।” তিনি এ-ও জানান, “পুলিশ আইন মেনেই কাজ করছে। এতে আমার কিছু বলার নেই। তিনি আইনি পথে লড়াই করবেন। যাঁরা ইন্দ্রনীলকে গ্রেফতার করেছেন তাঁরা আদালতে প্রমাণ দেবেন”

সাংবাদিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “বিজেপি রাজ‍্যে ক্ষমতায় আসার পরে প্রশংসা করতে শুরু করেছিল। ভেবেছিলেন… (বিজেপি তাঁকে দলে নেবে)। আরে এখানে এ সব হয় না। বিজেপির দরজা বন্ধ। বিজেপি অন‍্য রকম।” এর পরেই তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন, “আমি আগেই বলেছি— সকালের প্রাতঃরাশ এখনও শেষ হয়নি। আরও অনেক কিছুই হবে। আপনারা অপেক্ষা করুন। ঠিক সময় সঠিক জায়গায় হাত দেওয়া হবে। প্রাতিষ্ঠানিক চোরেরা জেলে যাবেই।”


Share