Wildlife Conservation

সচেতনতা অভাব! বাঘ ভেবে বাঘরোল পিটিয়ে হত‍্যা অব‍্যাহত হাওড়ায়, সংরক্ষিত প্রাণীর হত‍্যায় নির্বিকার বনদফতর

মেছোবিড়াল বা বাঘরোল বন‍্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইন ১৯৭২-এর দ্বিতীয় তফসিলের আওতায় পড়ে। আইন এই প্রাণীটিকে সুরক্ষিত করেছে। এমন প্রাণী মারার অপরাধ প্রমাণিত হলে সাত বছরের জেল এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানাও হতে পারে।

হাওড়ায় বাঘরোল পিটিয়ে হত‍্যার অভিযোগ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়া
  • শেষ আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬ ১০:৪১

রাজ‍্য প্রাণী বা ‘স্টেট অ‍্যানিমেল’ বাঘরোল। হাওড়া জেলার বাগনান, আমতা, শ্যামপুর-সহ বিভিন্ন এলাকার বিস্তীর্ণ জলাভূমিতে এদের বিচরণ। অভিযোগ, এই সমস্ত এলাকায় নির্বিচারে বাঘরোল হত‍্যা অব্যাহত রয়েছে। বাঘ মনে করে বাঘরোল হত‍্যা করা হচ্ছে। বনপ্রেমীদের অভিযোগ, এই নিয়ে বহুবার বনদফতরকে জানানো হয়েছে। তার পরেও তাঁরা যথাযথ পদক্ষেপ করেনি। তাঁদের মতে, গ্রামবাসীদের মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়েছে। তাই প্রতিনিয়ত এই ঘটনা ঘটছে চলেছে।

‍’ওয়াইল্ডলাইফ এনভায়রনমেন্ট সেভিয়ার ট্রাস্ট’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের অভিযোগ, আমতার নারিট গ্রামের মালিক পাড়ায় কয়েক দিন ধরেই মেছোবিড়াল রাতের অন্ধকারে গ্রামবাসীদের ছাগল, হাঁস, মুরগি ধরে তুলে নিয়ে যাচ্ছিল। ছাগল, মুরগি নিয়ে পালানোর সময় গ্রামের কয়েক জন মেছোবিড়ালকে দেখে ভুলবশত বাঘ ভেবে গ্রামে হইচই শুরু করে। এই নিয়ে গ্রামবাসীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। দিন দু’য়েক আগে কেউ বা কারা একটি বাঘরোলটিকে মেরে গ্রামের বাঁশ বাগানে ফেলে আসে। 

তাঁদের কথায়, গোপন সূত্র মারফত খবর পেয়ে ওই সংগঠনের কর্মীরা সেখানে যান। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য চিত্রক প্রামানিক, সৌরভ মন্ডল ও অর্ঘ্য মল্লিক ওই গ্রামে গিয়েছিলেন। রাতের অন্ধকারে বাঁশ বাগানে তন‍্যতন‍্য করে খুঁজে মৃত বাঘরোলের দেহ উদ্ধার করে। বাঘরোলটির ঘাড়ে গভীর ক্ষত চিহ্ন ছিল বলে দাবি। তৎক্ষণাৎ তাঁরা বনদফতরে খবর দেন।রাতেই বনদফতরের কর্মীরা গ্রামে এসে মৃত মেছোবিড়ালটির দেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। মৃত বাঘরোলের দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। কে বা কারা ওই বাঘরোলটিরে মারল তা নিয়ে গ্রামবাসীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। বনদফতরের দাবি— তাঁরা তদন্ত শুরু করেছে। 

ওই সেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যদের আরও অভিযোগ, চার বছর আগে বাগনানের কালিকাপুর গ্রামে একটি পুকুর থেকে মাছ খেয়ে নেওয়ার জন্য তিনটি বাঘরোলকে বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করা হয়। সেই ঘটনার আদলেই ফের আমতার তাজপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নারিট গ্রামে একই ঘটনা ঘটল। এই মেছোবিড়াল বা বাঘরোল বন‍্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইন ১৯৭২-এর দ্বিতীয় তফসিলের আওতায় পড়ে। আইন এই প্রাণীটিকে সুরক্ষিত করেছে। এমন প্রাণী মারার অপরাধ প্রমাণিত হলে সাত বছরের জেল এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানাও হতে পারে। 

এলাকার পরিবেশপ্রেমী ও শিক্ষক হেমন্তকুমার দেন বাঘরোল হত্যার নিন্দা করে বলেন, “বাঘরোল বা মেছোবিড়াল আমাদের পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য প্রানী। এদের রক্ষা করা আমাদের সবার কর্তব্য। এই বিষয়ে আরও সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।”

‘ওয়াইল্ডলাইফ এনভায়রনমেন্ট সেভিয়ার ট্রাস্টের’ পক্ষ থেকে চিত্রক প্রামানিক বলেন, "পূর্নবয়স্ক মেছোবিড়ালটির ঘাড়ে গভীর ক্ষত রয়েছে। মেছোবিড়াল মানুষকে আক্রমণ করে না। বরং ভিতু স্বভাবের। কিন্তু বাসস্থান ও খাদ্যের অভাবে বর্তমানে লোকালয়ে এসে ছাগল, হাঁস ধরে নিচ্ছে। ছাগল, হাঁস পালকেরা তাদের খাঁচা বা রাখার জায়গাগুলি শক্তপোক্ত করলে, মেছোবিড়াল সেগুলি ধরতে পারবে না।”

এই বিষয়ে রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ ওঁরাওকে ফোন করা হলে তিনি ফোন তোলেননি। প্রতিক্রিয়া নেওয়ার জন্য মেসেজ করা হলেও তিনি তার কোনও জবাব দেননি।


Share