Indian Railways

রাজধানী এক্সপ্রেসের এসি কামরায় দম্পতির ব্যাগ চুরি, পাঁচ বছরের আইনি লড়াইয়ের পর রেলকে ৮০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ ক্রেতা সুরক্ষা কমিশনের

ব্যাগের ভিতরে প্রায় ১৫ গ্রাম ওজনের একটি সোনার মঙ্গলসূত্র, নগদ পাঁচ হাজার টাকা এবং একটি ব্যাঙ্কের পাসবুক ছিল। ঘটনার পর দম্পতি ক্রেতা সুরক্ষা কমিশনের দ্বারস্থ হন।

রাজধানী এক্সপ্রেস
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬ ০২:৩৩

ট্রেনের এসি কামরায় সফরের সময় এক দম্পতির ব্যাগ চুরির ঘটনায় পাঁচ বছর পর ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিল পঞ্জাবের পাঠানকোট জেলা ক্রেতা সুরক্ষা কমিশন। ভারতীয় রেলকে ওই দম্পতিকে ৮০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে ২০২১ সালের ১৪ ডিসেম্বর। পঞ্জাবের বাসিন্দা ওই দম্পতি তাঁদের সন্তানকে নিয়ে ডিব্রুগড়-নিউ দিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেসের তৃতীয় শ্রেণির এসি কামরায় যাত্রা করছিলেন। অভিযোগ, সফরের মাঝেই তাঁদের একটি হ্যান্ডব্যাগ চুরি হয়ে যায়। ব্যাগের ভিতরে প্রায় ১৫ গ্রাম ওজনের একটি সোনার মঙ্গলসূত্র, নগদ পাঁচ হাজার টাকা এবং একটি ব্যাঙ্কের পাসবুক ছিল। ঘটনার পর দম্পতি ক্রেতা সুরক্ষা কমিশনের দ্বারস্থ হন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর কমিশন তাঁদের পক্ষে রায় দিয়ে ভারতীয় রেলকে ৮০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

ঘটনার পরই পরিবারটি বিষয়টি ট্রেনের আরপিএফ ও টিটিইকে জানান। দিল্লিতে পৌঁছে তাঁরা নিউ দিল্লি রেলওয়ে স্টেশনে একটি জিরো এফআইআর দায়ের করেন। এরপর রেলের গাফিলতির অভিযোগ তুলে ক্রেতা সুরক্ষা কমিশনের দ্বারস্থ হন।

মামলার শুনানিতে উত্তর রেলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ঘটনাটি ঘটার পর যথাসময়ে সংশ্লিষ্ট স্টেশনে কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে মামলাকারী পরিবার জানায়, ঘটনার পরপরই আরপিএফ ও টিটিইকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল এবং তার প্রমাণ হিসেবে নিউ দিল্লি স্টেশনে দায়ের করা জিরো এফআইআর-এর নথিও কমিশনের সামনে পেশ করা হয়। অন্য দিকে, কমিশন ওই দিনের সংশ্লিষ্ট ট্রেনের কোচ অ্যাটেনড্যান্ট এবং আরপিরফ কর্মীদের ডিউটি রোস্টারের কপি চাইলেও, রেলের পক্ষ থেকে তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

এই মামলার রায়ে কমিশন উত্তর রেলকে পরিষেবায় গাফিলতির জন্য দায়ী করেছে। কমিশনের প্রেসিডেন্ট কুলবিন্দর সিং পান্নু এবং সদস্য রাজকুমার শুক্লার পর্যবেক্ষণ, সংশ্লিষ্ট পরিবারকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও উপযুক্ত পরিষেবা দিতে ব্যর্থ হয়েছে রেল। ফলে খোয়া যাওয়া সামগ্রীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৭০ হাজার টাকা এবং মানসিক হয়রানির জন্য অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা ওই পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।


Share