Fake Police Arrest

লালবাজারের গোয়েন্দা পরিচয়ে গ্রামবাসীদের কাছ থেকে টাকা তোলার অভিযোগ, বর্ধমানে গ্রেফতার মুর্শিদাবাদের মণিরুল

পুলিশ সূত্রের খবর, বুধবার রাতে পালসিট ফাঁড়ি এলাকায় ভৈটা গ্রামে কাকলি হেমব্রম নামে এক আদিবাসী মহিলার বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে নিজেকে লালবাজারের ‘স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চে’-এর আধিকারিক পরিচয় দেন। এমনকি একটি পরিচয়পত্রও দেখান।

পুলিশ সেজে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার যুবক।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বর্ধমান
  • শেষ আপডেট: ০৯ নভেম্বর ২০২৫ ১১:৪০

লালবাজারের ‘স্পেশাল ব্রাঞ্চ’-এর আধিকারিক সেজে গ্রামের বাড়ি বাড়ি ঢুকে টাকা তোলার অভিযোগ যুবকের বিরুদ্ধে। টাকা না দিলে গ্রেফতারির ভয় দেখিয়ে গ্রামবাসীদের ফাঁদে ফেলছিলেন। একটি বাড়িতে টাকা তোলার পরে অন‍্য বাড়িতে গিয়ে গেলে গ্রামবাসীরা ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের মেমারিতে।

ধৃত যুবকের নাম মণিরুল শেখ ওরফে মণি। মণিরুল মুর্শিদাবাদের শক্তিপুর এলাকার বাসিন্দা। গত বুধবার রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে হাজির করানো হলে পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছেন বিচারক।

পুলিশ সূত্রের খবর, বুধবার রাতে পালসিট ফাঁড়ি এলাকায় ভৈটা গ্রামে কাকলি হেমব্রম নামে এক আদিবাসী মহিলার বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে নিজেকে লালবাজারের ‘স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চে’-এর আধিকারিক পরিচয় দেন। এমনকি একটি পরিচয়পত্রও দেখান। যদিও সেটি নকল বলে আদালতে দাবি করেথে পুলিশ। এর পরে ঘরে তল্লাশি শুরু করে। ঘরে রাখা পোস্ত-সহ অন্যান্য জিনিসের বিল দেখতে চান। কাকলি জানান, ওই জিনিসগুলি স্থানীয় দোকান থেকে কেনা হয়েছে। এর পরেই ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। না দিলে ওই মহিলার ছেলেকে গ্রেফতার করবেন বলেও হুমকি দেন। কাকলির দাবি, তিনি মণিরুলকে এক হাজার টাকা দিয়েছেন। মণিরুল টাকা নিয়ে বেরিয়ে যায়।

যুবক চলে যাওয়ার পরে কাকলি প্রতিবেশীদের কাছে বিষয়টি জানান। জানতে পারেন, ওই গ্রামের আরও দু’টি বাড়িতে এসে পুলিশ পরিচয় দিয়ে তল্লাশির নাম করে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করে চলে গিয়েছে। মণিরুলের খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। ওই গ্রামেরই এক জনের বাড়িতে মণিরুলকে দেখতে পান। হাতেনাতে ধরে ফেলে তাকে। খবর দেওয়া হয় মেমারি থানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পরে মণিরুলকে গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ বা কারা জড়িত রয়েছে কি না, মণিরুল শেখকে হেফাজতে নিয়ে জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। 


Share