SIR Hearing Crisis

এসআইআর শুনানির আতঙ্কে কাটোয়া আদালতের বাইরে রাতভর লাইন, তীব্র ঠান্ডায় দুর্ভোগ শত মানুষের

কাটোয়া ও বর্ধমানের এসআইআর শুনানিতে এফিডেভিটের জন্য শত শত মানুষ রাতভর লাইনে। তীব্র ঠান্ডা, অসুস্থতা ও নিরাপত্তা সংকটের মধ্যেই ভোটার তালিকা সংশোধনের চাপ বাড়ছে। রাজ্য প্রতিনিধি দল দিল্লি যাচ্ছেন।

এসআইআর-এর শুনানির জন্য কাটোয়া আদালতের বাইরে অপেক্ষা
নিজস্ব সংবাদদাতা, কাটোয়া
  • শেষ আপডেট: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ ০২:০২

প্রবল ঠান্ডায় রাত নামলেই শুনশান কাটোয়া শহর। সেই নিস্তব্ধতার মধ্যেই কাটোয়া মহকুমা আদালতের বাইরে খোলা আকাশের নীচে রাত জেগে বসে রয়েছেন শয়ে শয়ে মানুষ। এসআইআর শুনানিতে ডাকার চিঠি পেয়েছেন তাঁরা। শুনানির জন্য প্রয়োজন হতে পারে এফিডেভিট, এই আশঙ্কায় আদালতের বাইরে রাত থেকেই শুরু হচ্ছে লম্বা লাইন।

কেউ কেতুগ্রাম, কেউ মঙ্গলকোট দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষজন লেপ-কম্বল জড়িয়ে ঠান্ডা সামলানোর চেষ্টা করছেন। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় মা-বাবা কিংবা সন্তানের নামের বানানে ভুল থাকায় শুনানির আগে এফিডেভিট করানোর তাগিদে এই ভিড়। কিন্তু কাটোয়া মহকুমা আদালতে প্রতিদিন মাত্র ২০টি এফিডেভিট হওয়ায় সকালেই বহু মানুষকে ফিরে যেতে হচ্ছে। তাই আগের রাত থেকেই লাইনে দাঁড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে। মহিলা-পুরুষ নির্বিশেষে এই তীব্র ঠান্ডায় রাত কাটছে আদালতের বাইরে।

মঙ্গলবার এই পরিস্থিতির কথা লিখিতভাবে মহকুমা শাসককে জানিয়েছে কাটোয়া মহকুমা বার অ্যাসোসিয়েশন। অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক আইনজীবী সৌমেন সরকার বলেন, 'এফিডেভিট নিয়ে সমস্যা চলছে কাটোয়া আদালতে। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কম থাকায় রোজ ২০টি করে এফিডেভিট হচ্ছে। কিন্তু শুনানিতে সেটা চাওয়া হচ্ছে কেন, বুঝতে পারছি না।'

আদালতের উল্টো দিকের রাস্তায় রাতভর বসে থাকা মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। 

এ বিষয়ে কাটোয়া মহকুমাশাসক অর্নিবাণ বসু বলেন, 'শুনানির জন্য এফিডেভিট লাগছে না। অন্য কোনও কারণে হয়তো ওঁরা এফিডেভিট করাতে চাইছেন।'

একই ছবি ধরা পড়েছে বর্ধমান শহরেও। মেহেদিবাগান এলাকায় বিশেষ ভাবে সক্ষম মহিলা রিতু রজককে কোলে করে শুনানি কেন্দ্রে নিয়ে আসেন তাঁর স্বামী অমরনাথ রজক। তিনি জানান, স্ত্রীর হিপ জয়েন্ট ভেঙে গিয়েছে। ১০ মাস শয্যাশায়ী। সেই অবস্থাতেই নিয়ে আসতে হল।

দুর্গাপুরের ভিরিঙ্গি টিএন হাইস্কুলে শুনানিতে আসেন সদ্য বুকে পেসমেকার বসানো এক বৃদ্ধা। তিনি দুর্গাপুর পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। জানা গিয়েছে ওই বৃদ্ধা কর্মসূত্রে বাইরে থাকায় ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম ওঠেনি, সেই কারণেই তলব করা হয়েছে।

কালনায় আবার শুনানি কেন্দ্রে এসে অসুস্থ হয়ে পড়েন ধাত্রীগ্রামের ৩৩ বছরের ইসমাতোরা বিবি। কমিশন নির্দেশিত ১১টি প্রমাণপত্র না থাকায় শুনেই তিনি জ্ঞান হারান। কালনার মহকুমাশাসক অহিংসা জৈন জানান, ঘটনার কথা শুনেছেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে রাজ্যের তরফে একটি প্রতিনিধি দল দিল্লি যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে থাকছেন একজন মন্ত্রীও।


Share