Midday Meal Theft

কাটোয়ার শিশুশিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষিকার বিরুদ্ধে মিড ডে মিল চুরির অভিযোগ, ফুঁসছে গ্রামবাসীরা

কাটোয়ার গাঙ্গুলিডাঙা শিশু শিক্ষা কেন্দ্রে একমাত্র শিক্ষিকার বিরুদ্ধে মিড-ডে মিল ও স্কুলের সামগ্রী চুরির অভিযোগে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অভিভাবক ও গ্রামবাসীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে স্কুল থেকে জিনিসপত্র বাইরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কাটোয়া
  • শেষ আপডেট: ২৮ নভেম্বর ২০২৫ ০১:০৩

একটি স্কুল চালাতে ভরসা একজন শিক্ষিকা। অথচ সেই শিক্ষিকার ওপরেই উঠে এলো মিড ডে মিল চুরির অভিযোগ। অভিযোগটি উঠেছে বর্ধমানের কাটোয়ার ১ নম্বর ব্লকের গাঙ্গুলিডাঙা শিশুশিক্ষা কেন্দ্রে।

গাঙ্গুলিডাঙা শিশুশিক্ষা কেন্দ্রে মোট ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা প্রায় ১৩০ জন। প্রধান শিক্ষিকা আনজুম আনারা বেগম এই শতাধিক পড়ুয়ার শিক্ষার দায়িত্বে রয়েছেন। শিক্ষক-শিক্ষিকার অভাবে ধুঁকছে এই শিশুশিক্ষা কেন্দ্র। বহুদিন জেলা প্রশাসনের কাছে আরও শিক্ষক-শিক্ষিকার জন্য আবেদন করেও লাভ হয়নি। এরই মাঝে অভিভাবকেরা প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে এই কেন্দ্র থেকে বিভিন্ন সামগ্রী, মিড-ডে মিলের চাল চুরি ও বিক্রির অভিযোগ তুলেছেন। বৃহস্পতিবার এই অভিযোগ ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। এ দিন গ্রামের বহু বাসিন্দা বিক্ষোভে সামিল হন।

গ্রামবাসীদের একাংশের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষিকা গত দু’তিন মাস ধরেই নিয়মিত ভাবে ছুটির পর টোটোয় চাপিয়ে শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ও মিড-ডে মিলের চাল বাইরে নিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের দাবি, কয়েকদিন আগেও তাঁকে এ ভাবে জিনিসপত্র বের করে নিয়ে যেতে দেখা গিয়েছে। যথাযথ শিক্ষক শিক্ষিকার অভাবে শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের অবস্থা প্রায় শোচনীয়। তার উপর একমাত্র শিক্ষিকা চলে গেলে বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। এই ভাবনাতেই অভিভাবকেরা চুপ করে ছিলেন। কিন্তু তাঁদের পরিশেষে ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলো।

অভিযোগ উঠেছে, স্কুলের জিনিসপত্র বারবার চুরি হচ্ছে। সেগুলি নাকি বিক্রি ও পাচারও করা হচ্ছে। ঘটনা দিন দিন বাড়ছে বলেই দাবি গ্রামবাসীদের। বৃহস্পতিবার একই দৃশ্য দেখে তারা একজোট হন। শিক্ষিকাকে ঘিরে ধরে তারা প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। 

অভিযোগকারী এক গ্রামবাসীর দাবি, ‘শিশু শিক্ষা কেন্দ্রটিকে টিকিয়ে রাখার জন্য আমরা বহুবার বিডিওর কাছে শিক্ষক-শিক্ষিকা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছি। একজন শিক্ষিকা দিয়ে এত বড় শিক্ষা কেন্দ্র চালানো অসম্ভব। তাছাড়া যদি তিনি এই কেন্দ্রের জিনিসপত্র বিক্রি করে দেন, তা হলে বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ কী হবে?’ যদিও প্রধান শিক্ষিকা আনজুম আনারা বেগম মিড ডে মিল ও স্কুলের সামগ্রী চুরির সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।তাঁর দাবি, তাঁকে ভিত্তিহীন অভিযোগে ফাঁসানো হচ্ছে।

প্রশাসনের কাছে এ দিনের ঘটনার প্রচণ্ড উত্তেজনার খবর পৌঁছোয়। কাটোয়া ১ নম্বর ব্লকের বিডিও পঙ্কজ কোনার জানান, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়েও অভিভাবকেরা উদ্বেগে রয়েছেন।


Share