Corruption in Burdwan University

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ, উপাচার্য-সহ তিন আধিকারিকের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে মামলা

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও ফিন্যান্স অফিসারের বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকার অনিয়ম, বেআইনি পদোন্নতি ও নিয়োগের অভিযোগে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন ইউআইটি-র প্রাক্তন অধ্যক্ষ অভিজিৎ মিত্র।

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়
নিজস্ব সংবাদদাতা, বর্ধমান
  • শেষ আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ০১:১২

আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ যেন পিছু ছাড়ছেই না বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের। আগেই মেয়াদ শেষের আগে বেআইনি ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিক্সড ডিপোজিট ভেঙে প্রায় দু’কোটি টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগে তদন্ত ও মামলা চলছে। তার মধ্যেই ফের বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও ফিন্যান্স অফিসারের বিরুদ্ধে এক গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের হল।

এই মামলাটি দায়ের করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনাধীন ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির প্রাক্তন অধ্যক্ষ অভিজিৎ মিত্র। মামলার আবেদনে তাঁর অভিযোগ, বর্তমান উপাচার্যের আমলে বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েক কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষমতার অপব্যবহার করে বেআইনি ভাবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও গুরুতর বেনিয়ম হয়েছে। আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজবাটি ক্যাম্পাস একটি স্বীকৃত হেরিটেজ ক্যাম্পাস। ফলে সেখানে স্ক্র্যাপ বা অন্য কোনও সামগ্রী বিক্রির ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলা বাধ্যতামূলক। অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেই নিয়ম অমান্য করেছেন।

এ ছাড়াও, ২০২৩ সালের অডিট রিপোর্টে এজি বেঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন খাতে ১০ থেকে ১২ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম চিহ্নিত করেছিল বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ, সেই রিপোর্ট সামনে আসার পরও উপাচার্য ও ফিন্যান্স অফিসারের পক্ষ থেকে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। মামলায় আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে পদোন্নতির ক্ষেত্রে এমন কিছু পদ সৃষ্টি করা হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত কাঠামোর মধ্যেই নেই। এমনকি একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মীকে একই দিনে দু’টি আলাদা বেতনে দুই জায়গায় নিয়োগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর পেনশনও বহাল রাখা হয়েছে। অথচ রাজ্য সরকারের ২০১৭ সালের নিয়ম অনুযায়ী এই ধরনের নিয়োগ সম্পূর্ণ বেআইনি।

সোমবার মামলাকারী অভিজিৎ মিত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় এখন দুর্নীতির এক খোলা আখড়া হয়ে উঠেছে। সমস্ত তথ্য ও নথি-সহ পুলিশ প্রশাসন ও শিক্ষা দপ্তরে বারবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনও অজ্ঞাত কারণে তারা সবাই নীরব। তাই বাধ্য হয়েই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছি।” তিনি আরও জানান, মামলায় সমস্ত বিষয়ের সিবিআই তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

পাশাপাশি পুলিশ ও প্রশাসনকে আগেই পাঠানো চিঠিগুলিকে এফআইআর হিসেবে গণ্য করার আবেদন করা হয়েছে। যাতে দোষীরা কেউ আইনের ফাঁক দিয়ে রেহাই না পায়। অন্যদিকে, এই অভিযোগ প্রসঙ্গে উপাচার্য শঙ্করকুমার নাথের সঙ্গে যোগাযোগে তিনি বলেন, “কোথাও কোনও বেনিয়ম, অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়নি। মামলার কোনও নথি এখনও আমাদের হাতে আসেনি। কাগজ পেলে আমাদের আইনজীবীরা যথাযথ জবাব দেবেন।” সূত্রের খবর, চলতি সপ্তাহেই কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলার প্রাথমিক শুনানি হতে পারে। গোটা বিষয়টি ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় মহলে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।


Share