Accused of Beating a Student

স্কুলে ব্ল্যাকবোর্ড ভাঙচুরের অভিযোগ, প্রাক্তন নাবালক ছাত্রকে বেধড়ক মারধর পার্শ্বশিক্ষকের

পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার পানুহাট রাজমহিষীদেবী উচ্চ বিদ্যালয়ে ব্ল্যাকবোর্ড ভাঙচুরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক প্রাক্তন নাবালক ছাত্রকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্কুলের এক পার্শ্বশিক্ষকের বিরুদ্ধে।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, কাটোয়া
  • শেষ আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ০৩:৪৩

স্কুলে দুষ্টুমি ও ব্ল্যাকবোর্ড ভাঙচুরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিপত্তি।  স্কুলের এক পার্শ্বশিক্ষকের বিরুদ্ধে এক প্রাক্তন নাবালক ছাত্রকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল। মারধরের জেরে নাবালকটি জ্ঞান হারিয়েছিলেন। বর্তমানে সে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 

 বুধবার বিকেলে পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার পানুহাট রাজমহিষীদেবী উচ্চ বিদ্যালয়ে ঘটনাটি ঘটেছে।

আক্রান্ত ছাত্রের নাম কার্তিক রাজবংশী। সে দুই বছর আগে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে স্কুল ছেড়ে দেয়। বুধবার স্কুলে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠান থাকায় পড়ুয়াদের পাশাপাশি বহু প্রাক্তনীও উপস্থিত ছিলেন। সেই সূত্রেই কার্তিক স্কুলে আসে বলে জানা গিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, অনুষ্ঠানের সময় পড়ুয়াদের ব্যাগপত্র রাখার জন্য স্কুলে একটি আলাদা ঘর নির্দিষ্ট করা হয়েছিল। অভিযোগ, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চলাকালীন কয়েকজন ছাত্র সেই ঘরে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। সেই সময় ব্ল্যাকবোর্ড ভেঙে যায়। এরপরই বিষয়টি নজরে আসে স্কুলের এক পার্শ্বশিক্ষকের। ওই শিক্ষক কার্তিক রাজবংশীকেই ভাঙচুরের জন্য দায়ী করে। তাকে মাটিতে ফেলে বেধড়ক মারধর করেন। কিল, চড় ও ঘুষি মারার পাশাপাশি কানের পাশেও আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ। মারধরের জেরে কার্তিক মাটিতে লুটিয়ে পড়ে জ্ঞান হারায়। পরে অন্য ছাত্ররা তাকে উদ্ধার করে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করে।

কার্তিকের বাবা মা ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছোন। কার্তিকের বাবা তারক রাজবংশী বলেন, “আমরা খুব গরিব মানুষ। টাকার অভাবে ছেলেটাকে আর পড়াতে পারিনি। তাই বলে একজন শিক্ষক এভাবে আমার ছেলেকে মারবে? ওকে প্রায় মেরেই ফেলেছিল। আমরা চাই অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।” কার্তিকের মা ঝুমা রাজবংশীর অভিযোগ, “আমার ছেলের কিছু হয়ে গেলে স্কুল কি দায় নেবে? আমরা থানায় অভিযোগ জানাব।” ঘটনা প্রসঙ্গে স্কুলের প্রধান শিক্ষক কমলাকান্ত চক্রবর্তী জানান, ঘটনার সময় তিনি স্কুলে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি কাটোয়া পুরসভার চেয়ারম্যান পদেও রয়েছেন। তাঁর বক্তব্য,

“আমি চেয়ারম্যান হিসেবে অন্য একটি অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে গিয়েছিলাম। শুনেছি ওই ছাত্রটি ব্ল্যাকবোর্ড ভেঙেছিল এবং তারপর মারধরের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নাবালকের উপর শিক্ষকের হাতে মারধরের অভিযোগে স্কুল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।


Share