Road Accident

বছরের প্রথম দিনেই ভয়াবহ পথদুর্ঘটনা পূর্ব বর্ধমানে, তেলের ট্যাঙ্কারের ধাক্কায় মৃত্যু বাবা-মা ও ছেলের, জখম চালক

জোতরাম এলাকায় একটি গ‍্যাসের ট্যাঙ্কারে ধাক্কা মেরে গাড়িটি বহুটা পথ টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বাবা, মা ও ছেলের।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, পূর্ব বর্ধমান
  • শেষ আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:৩১

বছরের প্রথম দিনই ভয়াবহ পথদুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন বাবা-মা এবং ছেলে। বৃহস্পতিবার পূর্ব বর্ধমানে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে জোতরাম এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। তাঁরা একটি গাড়িতে ছিলেন। সেই গাড়িটি সামনে থাকা একটি গ‍্যাসের ট্যাঙ্কারে ধাক্কা মারে। এর পরেই ট্যাঙ্কারের পিছনে থাকা লোহার একটি অংশে গাড়িটি আটকে যায়। সেই অবস্থাতেই ট্যাঙ্কারটি অনেকটা টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যায়। দুর্ঘটনায় গাড়ির চালকও জখম হয়েছেন।

জানা গিয়েছে, ছেলে পুনেতে কাজ করেন। তাঁকে বিমানে তুলে দেওয়ার জন্যই বাবা ও মা দুর্গাপুর থেকে কলকাতা আসছিল। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, একটা গ্যাসের গাড়ি যাচ্ছিল। গ্যাসের গাড়ির পিছনে গিয়ে তাঁদের গাড়িটি সজোরে ধাক্কা মারে। এর পরেই গ্যাসের গাড়ির পিছনে থাকা একটা লোহার অংশে চার চাকা গাড়ি আটকে যায়। ওই অবস্থাতেই গ্যাসের গাড়ির চালক এগিয়ে যান। চিৎকার করেও গাড়িটি থামানো যাচ্ছিল না। এর পরে এলাকার লোকজন গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে পড়ে গাড়িটিকে থামানোর চেষ্টা করেন। বাধ্য হয়ে ব্রেক কষেন চালক। 

মৃতদের নাম শেখ মহম্মদ মুর্শেদ (৫৫), রেজিনা খাতুন (৫১), শেখ শাহনাওয়াজ (২৭)। তাঁরা দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। মুর্শেদ দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্টে চাকরি করেন। ছেলে সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। এ দিন তাঁরা ছেলেকে কলকাতা বিমানবন্দরে ছাড়তে যাচ্ছিলেন। সেই পথেই ঘটে দুর্ঘটনা।

খবর পেয়েই শক্তিগড় থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ তাঁদের তড়িঘড়ি উদ্ধার করে। নিয়ে যাওয়া হয় বর্ধমান মেডিকেল কলেজে। চিকিৎসকেরা তিন জনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন। গাড়ির চালকের অবস্থায় আশঙ্কাজনক। সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।

ঘটনা প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্র্যাফিক) সুরজিৎকুমার দে জানান, বেনাচিতি দুর্গাপুর থেকে কলকাতায় যাচ্ছিল পরিবার। ট্যাঙ্কার যাচ্ছিল সামনে। তাতে ধাক্কা লেগেই তিন জনের মৃত্যু হয়েছে।


Share