Murder Case

বচসার মাঝেই অন্তঃসত্ত্বা বধূর মাথায় কাটারির দিয়ে সজোরে কোপ! উদয়নারায়ণপুরে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার শ্বশুর

মাস চারেক আগেও শ্বশুরের বিরুদ্ধে তাঁর মাথায় মুগুর দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনায় সালমার মাথা ফেটে গিয়েছিল।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, উদয়নারায়ণপুর
  • শেষ আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৩৮

অন্তঃসত্ত্বা বধূকে কাটারির কোপ মেরে খুনের অভিযোগ উঠল শ্বশুরের বিরুদ্ধে। সোমবার সকালে ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ায় উদয়নারায়ণপুরের ভবানীপুর বিধি চন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। ঘটনায় অভিযুক্ত শ্বশুর শেখ লিয়াকত। তাঁকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। মৃতার নাম সালমা খাতুন (২৬)।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সকালে বাড়িতে পারিবারিক অশান্তি শুরু হয়। সেই সময় ঘর থেকে কাটারি নিয়ে এসে সালমার মাথায় কোপ মারার অভিযোগ ওঠে লিয়াকতের বিরুদ্ধে। গুরুতর জখম অবস্থায় সালমা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সেই সময় সালমার শাশুড়িও বাড়িতে ছিলেন। বউমার চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। দ্রুত সালমাকে উদ্ধার করে আমতা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর লিয়াকতের বিরুদ্ধে পুলিশ খুনের মামলা রুজু করেছে। প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক অশান্তির বিষয়টি উঠে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, নানা বিষয়কে কেন্দ্র করে ওই পরিবারে প্রায়ই অশান্তি হত। এদিনও তেমনই কোনও কারণে ঝামেলা শুরু হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সালমার স্বামী জাবির আলম কর্মসূত্রে সুরাটে থাকেন। সেখানে তিনি সোনার কাজ করেন। প্রায় আট বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়। তাঁদের দুই মেয়ে রয়েছে। বড় মেয়ের বয়স ছয় বছর। ছোট মেয়ের বয়স চার বছর। সালমা মাস পাঁচেকের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। জানা গিয়েছে, জাবিরের দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন সালমা।

অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই সালমার শ্বশুরবাড়িতে নানা কারণে অশান্তি চলত। মাস চারেক আগেও শ্বশুরের বিরুদ্ধে তাঁর মাথায় মুগুর দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনায় সালমার মাথা ফেটে গিয়েছিল। এরপর ফের অশান্তিই তার প্রাণ কেড়ে নিল।

ঘটনার পর সালমার শাশুড়িকেও পুলিশ আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। আগের ঘটনা এবং পারিবারিক অশান্তি নিয়ে সালমা কেন থানায় অভিযোগ করেননি, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। পুরো বিষয়টি তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন।


Share