Cyber Crime

পরিচারিকার হাতে ব্যাঙ্কের দায়িত্ব, অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মীর অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও কোটি টাকা! নৈহাটিতে গ্রেফতার দম্পতি

অভিযোগ, এটিএম কার্ড ও সই করা চেকবইয়ের সুযোগ নিয়ে টাকা সরানোর পাশাপাশি মহিলার সোনার গয়নাও হাতানো হয়েছে।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, নৈহাটি
  • শেষ আপডেট: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:৪৩

অসুস্থ অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মী ও তাঁর বোনের দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন পরিচারিকা। সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে তাঁদের টাকা ও গয়না আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। অবসরপ্রাপ্ত ওই রেলকর্মীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় কোটি টাকা সরানোর অভিযোগ উঠেছে পরিচারিকা ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে। তাঁদের নাম বর্ণালী মৃধা ও তাঁর স্বামী শম্ভু মৃধা। ঘটনায় নৈহাটি থানার পুলিশ দু’জনকেই গ্রেফতার করেছে।

নৈহাটি পুরসভার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে স্টেশনের কাছে রেল কোয়ার্টারে থাকতেন বিশ্বনাথ চক্রবর্তী। তাঁর সঙ্গে থাকতেন বোন শিখা চক্রবর্তী। বয়সজনিত অসুস্থতার পাশাপাশি দু’জনেরই চলাফেরায় সমস্যা ছিল। তাই তাঁদের দেখাশোনার জন্য প্রায় চার বছর আগে দায়িত্ব দেওয়া হয় বর্ণালী মৃধাকে। কাঁচরাপাড়ার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাবু ব্লক এলাকার বাসিন্দা ওই পরিচারিকা দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের দেখভাল করছিলেন।

পরিবারের দাবি, শারীরিক সমস্যার কারণে বিশ্বনাথ ও শিখা নিজেরা প্রায় কোথাও যাতায়াত করতে পারতেন না। দীর্ঘদিনের পরিচিতির কারণে বর্ণালীর উপর তাঁদের যথেষ্ট আস্থা তৈরি হয়েছিল। সেই কারণে বিশ্বনাথের ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত একাধিক নথি তাঁর কাছেই থাকত বলে অভিযোগ। এমনকি এটিএম কার্ড এবং সই করা চেকবইও বর্ণালীর কাছে ছিল বলে দাবি পরিবারের।

অভিযোগ, সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই ধীরে ধীরে বিশ্বনাথের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলা শুরু হয়। এই কাজে বর্ণালীর স্বামী শম্ভুও যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ পরিবারের। সব মিলিয়ে আত্মসাৎ করা টাকার পরিমাণ প্রায় এক কোটি টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।

শুধু ব্যাঙ্কের টাকা নয়, শিখা চক্রবর্তীর বেশ কিছু সোনার গয়নাও আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। বিষয়টি সামনে আসার পর নৈহাটি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে পরিবার।

অভিযোগের ভিত্তিতে বর্ণালী ও তাঁর স্বামী শম্ভুকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তদন্তকারীরা তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। বিশ্বনাথের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেন, চেকের ব্যবহার এবং এটিএম থেকে টাকা তোলার তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই আর্থিক নয়ছয়ের ঘটনায় আরও কেউ জড়িত ছিলেন কি না, সেই বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।


Share