Mongola Haat

মঙ্গলাহাটের জমজমাটি চিত্রে বদল, রাস্তা ছেড়ে ফুটপাথে ব্যবসা, স্বস্তিতে নিত্যযাত্রীরা

হাওড়ার মঙ্গলাহাটে রাস্তার উপর দোকান বসানো বন্ধ করে শুধুমাত্র ফুটপাথে ব্যবসার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। ফলত বহুদিন পর স্বাভাবিক ছিল যান চলাচল। যদিও জায়গা কমে যাওয়ায় সমস্যার মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীদের একাংশ।

ব্যবসায়ীদের রাস্তার বদলে শুধু ফুটপাতে দোকান বসাতে হয়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়া
  • শেষ আপডেট: ২৭ মে ২০২৬ ১১:৩৯

হাওড়ার ঐতিহ্যবাহী হাট মঙ্গলাহাট। জমজমাট ভিড়। সকাল থেকে সন্ধ্যা লোকের আনাগোনা। কিন্তু পালাবদলের আবহে বদলে গেল মঙ্গলাহাটের চিত্রও। মঙ্গলবার হাটে এক অন্য ছবি দেখা গেল। প্রতি সপ্তাহে যে বাজারে উপচে পড়া ভিড়, রাস্তা জুড়ে দোকান আর যানজট— এ দিন সেখানে ছিল অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ। হাওড়া সিটি পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের কড়া নির্দেশের জেরে ব্যবসায়ীদের রাস্তা ছেড়ে শুধুমাত্র ফুটপাথের মধ্যেই দোকান বসাতে হয়। ফলে বহুদিন পর মঙ্গলাহাট চত্বরে তুলনামূলক স্বাভাবিক ছিল যান চলাচল।

প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো এই মঙ্গলাহাট। শুধু হাওড়া নয়। এই হাট আশপাশের একাধিক জেলার ব্যবসার বড় কেন্দ্র। হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, বর্ধমান এবং দুই ২৪ পরগনা থেকে হাজার হাজার ব্যবসায়ী প্রতি মঙ্গলবার এখানে আসেন। ভোর থেকে বেচাকেনা শুরু হয়। চলে বিকেল পর্যন্ত। সাধারণত হাওড়া ময়দান থেকে জিটি রোড পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে বাজার। পুরসভা, টাউন হল, জেলা আদালত, জেলাশাসকের দফতর থেকে শুরু করে হাওড়া জেলা হাসপাতাল ও অর্থোপেডিক হাসপাতালের সামনেও তৈরি হয় তীব্র ভিড়।

দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল, মঙ্গলাহাটের কারণে মঙ্গলবার সকাল থেকেই গোটা এলাকায় প্রবল যানজটের সৃষ্টি হয়। সাধারণ যাত্রীদের তো সমস্যায় পড়তে হয়ই। পাশাপাশি জরুরী পরিষেবাকে ও সমস্যায় পড়তে হয়। অনেক সময় হাসপাতালের সামনে অ্যাম্বুল্যান্স আটকে পড়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। সেই পরিস্থিতি সামাল দিতেই প্রশাসন এবার কড়া পদক্ষেপ করে নিল।

সোমবার মঙ্গলাহাটের সাতটি ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে হাওড়া সিটি পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের আধিকারিকরা বৈঠকে বসেন। সেখানেই স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, কোনওভাবেই রাস্তার উপর দোকান বসানো যাবে না। যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নেবে বলেও জানানো হয়।

তার পরেই মঙ্গলবার সকাল থেকে মঙ্গলাহাটের বদলে যায়। ব্যবসায়ীরা ফুটপাথ এবং রেলিংয়ের ভেতরের নির্দিষ্ট অংশে পসরা সাজান। পুলিশকেও দেখা যায় লাগাতার মাইকিং করতে। রাস্তা ফাঁকা থাকায় বাস, ট্রাক, ট্যাক্সি-সহ অন্যান্য যানবাহন তুলনামূলক স্বাভাবিকভাবেই চলাচল করে।

তবে নতুন এই নিয়ম নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। অনেকেই জানিয়েছেন, জায়গা কমে যাওয়ায় ব্যবসা করতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। খদ্দেরদের জিনিসপত্র ভালোভাবে দেখানোও কঠিন হয়ে উঠছে। পাশাপাশি প্রচণ্ড গরম এবং প্রশাসনিক কড়াকড়ির কারণে এ দিন বাইরের ক্রেতার সংখ্যা তুলনামূলক কম ছিল বলেও তাঁদের অভিযোগ। ফলে কয়েকজন ব্যবসায়ীর তরফে দাবি করা হয়, বিক্রিবাটাও আশানুরূপ হয়নি।

অন্যদিকে, বহুদিন পর ফাঁকা রাস্তা দেখে স্থানীয় বাসিন্দা ও নিত্যযাত্রীরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। রাস্তায় চলাচলও ছিল স্বাভাবিক। যানজট কম থাকায় যাতায়াতে সুবিধা হয়েছে বলেই মত অধিকাংশের। যদিও ভবিষ্যতে ফুটপাথে ব্যবসা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই প্রসঙ্গে মঙ্গলাহাট ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক রাজকুমার সাহা বলেন, ব্যবসায়ীদের ফুটপাথে বসার অধিকার যেন কেড়ে নেওয়া না হয়, সেই দাবিতে জেলাশাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হবে।


Share