BLO Traced in Puri

কাজের চাপ নয়, ব‍্যাঙ্কের দেনা না মেটাতে পারা কাটোয়ার নিখোঁজ বিএলওকে পুরী থেকে গ্রেফতার করল পুলিশ

এসআইআর শুনানির আগে নিখোঁজ কাটোয়ার বিএলও অমিত কুমার মণ্ডলের খোঁজ মিলল ওড়িশার পুরীতে। শেয়ার বাজারে আর্থিক ক্ষতির চাপেই পালিয়েছিলেন বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান।

ধৃত বিএলও’র নাম অমিতকুমার মন্ডল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কাটোয়া
  • শেষ আপডেট: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২:১৭

এসআইআর শুনানি শুরুর ঠিক আগেই রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া পূর্ব বর্ধমানেরকাটোয়ার এক বুথ স্তরের আধিকারিককে (বিএলও) অবশেষে খোঁজ মিলল। ওড়িশার পুরী থেকেতাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গত শনিবার থেকে শুরু হয়েছে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের শুনানি প্রক্রিয়া। তারআগেই কাটোয়ায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। জানা যায়, অমিতকুমার মণ্ডল নামে এক বিএলও-র হদিস মিলছেনা। তিনি কাটোয়া-১ ব্লকের খাজুরডিহি পঞ্চায়েতের বিকিহাট এলাকার বাসিন্দা। কাটোয়ার ২৩ নম্বরবুথের দায়িত্বে ছিলেন। বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে দ্রুত তদন্তে নামে কাটোয়া থানার পুলিশ।

পুলিশি সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরীর সমুদ্র সৈকত এলাকা থেকে অমিতকে গ্রেফতার করা হয়েছে।মঙ্গলবার তাঁকে কাটোয়া মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে। সেখানে বিচারকের সামনে তাঁর গোপনজবানবন্দি নেওয়া হবে।

পরিবার সূত্রে খবর, গত ২৩ ডিসেম্বর বাড়িতে এসআইআর সংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে কাজ করছিলেনঅমিত। কিছু ক্ষণ পরে সেই নথি টেবিলে রেখেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান তিনি। তারপর থেকেই তাঁরআর খোঁজ পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় তাঁর ভাই অভিজিৎ মণ্ডল কাটোয়া থানায় নিখোঁজেরঅভিযোগ দায়ের করেন।

পেশায় শিক্ষক অমিত কেতুগ্রামের উদ্ধারণপুর প্রাথমিক স্কুলে কর্মরত ছিলেন। তদন্তে উঠে এসেছে, শেয়ার বাজারে বিপুল অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন তিনি। সম্প্রতি সেই বিনিয়োগে বড়সড়আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন এবং লক্ষাধিক টাকার ব্যাঙ্কের সঙ্গে দেনায় জড়িয়ে পড়েন। তদন্তকারীদেরপ্রাথমিক অনুমান, দেনার চাপেই তিনি পালিয়ে গিয়েছিলেন, কাজের চাপের কারণে নয়। জানাগিয়েছে, প্রথমে তিনি কলকাতায় যান, সেখান থেকে পুরীতে গিয়ে এক বন্ধুর বাড়িতে আশ্রয় নেন।

ছ’দিন পর অমিতের খোঁজ মেলায় স্বস্তি ফিরেছে কাটোয়া মহকুমা প্রশাসনে। কারণ, এসআইআরশুনানির জন্য ২৩ নম্বর বুথের ৩০ জন ভোটারকে নোটিস দেওয়া হয়েছিল এবং সেই শুনানিতেবিএলও হিসেবে অমিতের উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি ছিল। তবে কাটোয়ায় ফেরার পর প্রকাশ্যে কোনওমন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে।


Share