SIR Protest in DakshinDinajpur

কুমারগঞ্জে শুনানিকেন্দ্রে তাণ্ডব! কমিশনের মাইক্রো অবর্জাভারকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে নামল র‍্যাফ

অভিযোগ, শুনানির সময় প্রায় দুই শতাধিক মানুষের নথিতে ‘নো ম্যাচিং’ লিখে দেওয়া হয়। সঠিক নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও কেন এমনটা করা হল, তা নিয়ে উপস্থিত আবেদনকারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

শুনানিকেন্দ্রে মারামারিতে আক্রান্ত মাইক্রো অবর্জাভার
অরুণিমা কর্মকার, কুমারগঞ্জ
  • শেষ আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:১৭

ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর শুনানিকেন্দ্রে চলল তান্ডব। এ বার ঘটনাস্থল দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জ। জানা গিয়েছে, শনিবার বিকেলে কেন্দ্রে শুনানি চলাকালীন কয়েক জন কমিশনের কর্মীদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কমিশনের মাইক্রো অবজার্ভার-সহ দু’জন কমিশনের কর্মীকে মারধর করা হয়েছে। অভিযুক্তেরা স্থানীয় তৃণমূলকর্মী বলেই জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ এবং র‍্যাফ মোতায়েন করতে হয়।

কুমারগঞ্জ ব্লক কার্যালয় চত্বরে জাকিরপুর পঞ্চায়েত এলাকার ১২৩, ১২৪ ও ১২৫ নম্বর বুথের ভোটারদের জন্য এসআইআর সংক্রান্ত শুনানি চলছিল। পাশের আইসিডিএসের কার্যালয়ে এই শুনানির আয়োজন করা হয়েছিল। অভিযোগ, শুনানির সময় প্রায় দুই শতাধিক মানুষের নথিতে ‘নো ম্যাচিং’ লিখে দেওয়া হয়। দাবি, তাঁদের কাছে সঠিক নথিপত্র রয়েছে। তার পরেও কেন এমন করা হল, তা নিয়ে তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

অভিযোগ, উত্তেজিত কয়েক জন শুনানি কক্ষের ভিতরে ঢুকে নির্বাচন কমিশনের মাইক্রো অবজার্ভার দিব্যেন্দু গড়াই ও আরেক সরকারি কর্মকর্তা দিলীপ লাকরাকে বেধড়ক মারধর করে। জানা গিয়েছে, দিব্যেন্দু গড়াই এলআইসি-তে কর্মরত রয়েছেন। বর্তমানে তিনি ওই বুথের নির্বাচন কমিশনের মাইক্রো অবজার্ভার হিসেবে কাজ করছেন। আরেক জন দিলীপ লাকরা রাজ্য কৃষি দফতরে কর্মরত রয়েছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় পুলিশ। অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি সামাল দিতে আনা হয় র‍্যাফ। ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক শ্রীবাশ বিশ্বাস এবং কুমারগঞ্জ থানার আধিকারিকেরা জখমদের উদ্ধার করেন। নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁদের বিডিও কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে দিব্যেন্দু গড়াই ব্লকের প্রশাসনের সুরক্ষায় রয়েছেন।

শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ৪০০ জন বিক্ষোভকারী বিডিও কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান বিক্ষোভ চালান। সূত্রের খবর, তাঁরা বেশিরভাগই স্থানীয় তৃণমূল কর্মী। তাঁদের দাবি, কেন এত সংখ্যক নথি গণহারে বাতিল করা হয়েছে, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে। এই বিষয়ে মন্তব্যের জন্য বিডিও বা আহতের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। বিডিওকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এই প্রসঙ্গে জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনিও ফোন ধরেননি।

ঘটনা প্রসঙ্গে জেলা বিজেপি সম্পাদক রজত ঘোষ বলেন, “পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে প্রশাসন। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে পর্যবেক্ষকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।” অন্যদিকে,  তৃণমূলে দাবি, ইচ্ছাকৃত ভাবে তাঁদের ‘নো ম্যাচিং’ দেখিয়ে ভোটাধিকার নিয়ে টালবাহানা করা হচ্ছিল। এ দিনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘক্ষণ বিডিও অফিস চত্বরে উত্তেজনা ছিল।


Share