Marriage

রেজিস্ট্রি-এনগেজমেন্টের পর বিয়েতে ‘না’, পুরোনো প্রেমিককে নিয়েই থানায় হাজির পাত্রী

এই পরিস্থিতিতে দুই পরিবার আচমকা পাত্রীর সিদ্ধান্তে চমকে যায়। অভিযোগ, সরস্বতী পুজোর পর থেকেই পাত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় মনখারাপের পোস্ট করতে শুরু করেন, যা দেখে সন্দেহ হয় পাত্রের। জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট কিছু বলেননি বলে দাবি।

বালুরঘাট থানা
নিজস্ব সংবাদদাতা, বালুরঘাট
  • শেষ আপডেট: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫৫

রেজিস্ট্রি ম্যারেজ ও এনগেজমেন্ট হয়ে গিয়েছে মাস দু’য়েক আগেই। বিয়ের নিমন্ত্রণ, লজ বুকিং, লাইট, ডেকোরেশন, কেটারিং সব প্রস্তুতিও শেষ। আগামী মঙ্গলবার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই শনিবার হঠাৎ বিয়েতে পাত্রী আপত্তি জানালেন। পরিবারের কাছে স্পষ্ট জানান, ঠিক হওয়া পাত্রকে নয়, তিনি তাঁর পুরোনো প্রেমিককে বিয়ে করতে চান। বিষয়টি নিয়ে তিনি নিজেই বালুরঘাট থানায় হাজির হন। পরে দুই পক্ষের পরিবারও থানায় যায়। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পাত্রীর বাড়ি বালুরঘাট পুরসভা এলাকায়। তিনি পেশায় মেহেন্দি শিল্পী। পাত্র ওষুধের দোকানের কর্মী, তাঁর বাড়িও বালুরঘাটে। পাত্রের দাবি, দু’জন একসঙ্গে পড়াশোনা করতেন এবং ২০২০ সাল থেকে তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল। দুই পরিবারের সম্মতিতে ছ’মাস আগে বিয়ে ঠিক হয় এবং মাস দু’য়েক আগে এনগেজমেন্ট সম্পন্ন হয়। ২ নভেম্বর রেজিস্ট্রিও হয়। ৩ ফেব্রুয়ারি সামাজিক বিয়ের দিন ধার্য ছিল।

এই পরিস্থিতিতে দুই পরিবার আচমকা পাত্রীর সিদ্ধান্তে চমকে যায়। অভিযোগ, সরস্বতী পুজোর পর থেকেই পাত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় মনখারাপের পোস্ট করতে শুরু করেন, যা দেখে সন্দেহ হয় পাত্রের। জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট কিছু বলেননি বলে দাবি।

শুক্রবার সকালে ২৭ বছরের পাত্রী বান্ধবীর বাড়িতে আইবুড়ো ভাত খেতে বের হন। সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় পরিবার যোগাযোগ করলে ফোনে তিনি জানান, ঠিক হওয়া বিয়ে করবেন না এবং পুরোনো প্রেমিককেই বিয়ে করতে চান। পরিবারের বোঝানোয়ও তিনি সিদ্ধান্ত বদলাননি। পরে সেই প্রেমিককে নিয়ে থানায় যান।

সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত থানায় আলোচনা চলে। পুরো বিষয়টি জানার পর পাত্র বিয়ে ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে আগের রেজিস্ট্রি ম্যারেজকে ঘিরে। আইনত বিচ্ছেদ না হলে নতুন করে বিয়ে সম্ভব নয়।

পাত্রের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পরও পাত্রীর পুরোনো সম্পর্ক বজায় ছিল। তাঁদের প্রশ্ন, বিয়ে না করার ইচ্ছে থাকলে এনগেজমেন্ট ও রেজিস্ট্রি কেন করা হল। যদিও পাত্রীর বক্তব্য, কাকে বিয়ে করবেন বা কার সঙ্গে থাকবেন, তা তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।

পুলিশ জানিয়েছে, তরুণী প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাঁর সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। এখনও পর্যন্ত কোনও পক্ষই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। পাত্রীর পরিবার সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলতে চাননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাত্র দাবি করেন, অকারণ হয়রানি ও অপমানের শিকার হয়েছেন তাঁরা। বালুরঘাট সদরের ডিএসপি বিক্রম প্রসাদ বলেন,  ‘এ নিয়ে এখনও কোনও অভিযোগ হয়নি।’


Share